সরকার পতনসহ ১০ দফা দাবিকে জনগনের দাবিতে পরিণত করতে হাটে মাঠে পর্যন্ত কর্মসূচী দিতে চায় বিএনপি। এ প্রসঙ্গে নীতিনিধারনী নেতাদের সাথে বলে জানা গেছে,আসছে রমজান পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব ধরে ধাপে ধাপে ‘ঠান্ডা’ কর্মসূচী দেয়া হবে। ঈদের পর আন্দোলনকে উত্তাপ্ত করতে শক্ত কর্মসূচী দেয়া হবে। এ লক্ষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ সারা দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় সদরে আবারও সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। ওইসব সমাবেশের মধ্য দিয়ে তৃণমূলে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ফের জানান দিতে চায় । মোদ্ধা কথা এই, চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে নানা কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি ও সমমনা দল গুলো।
বিএনপি ও তার মিত্র দল জোট নেতাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র গুলো বলছে, এ মুহূর্তে বিএনপি ও সমমনাদের চাওয়া,তাদের আন্দোলনের সঙ্গে দেশবাসীও সম্পৃক্ত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ আর এই সরকারকে চায় না। সমাবেশ সফলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে এরই মধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় সমাবেশ সফলে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। তাদের কর্মকা- মনিটরিং করে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা কেন্দ্রে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দেবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির তৃণমূল এখন অনেক শক্তিশালী। সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে সেটির প্রমাণও দিয়েছে তারা; কিন্তু তাই বলে তো বসে থাকলে চলবে না। কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, তৃণমূল শক্তিশালী বলেই নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে কর্মসূচি দিতে হচ্ছে। এই সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ জেগেছে। তাদের মানসিক শক্তি দিতে হবে। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃণমূল আরও বেশি শক্তিশালী-চাঙ্গা হচ্ছে। দাবি আদায়ে সামনে আরও কর্মসূচি আসবে বলে জানান দলটির এই নীতিনির্ধারক।
গত বছরের ২২ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃণমূলে বিভিন্ন কর্মসূচি করে বিএনপি। সেসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটে। দলটির নেতারা বলছেন, তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার প্রমাণ এটি।
এরপর নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রথম কর্মসূচি হিসেবে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর এবং ঢাকার বাইরে ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিল হয়। পঞ্চম কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাংগঠনিক বিভাগগুলোতে সমাবেশ করবে দলটি। এর মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী রাখতে চায় বিএনপি, যাতে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সফল করা যায়। সে কারণে বিভাগীয় সমাবেশ সফলে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকরা গত ২৭ থেকে বিভাগের অন্তর্গত জেলা, মহানগর সফর এবং প্রস্তুতি বৈঠক অব্যহত রেখেছেন। ৩০ জানুয়ারির মধ্যে তা শেষ করবেন। এ ছাড়া ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর নেতারা টিম গঠন করে অধীনস্ত ইউনিট সফর করবেন। সমাবেশে যোগ দিতে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ ও দাবি-দাওয়া বিষয়ে জনগণকে অবহিত করতে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, হাট-বাজার, পাড়া-মহলায় পদযাত্রা, প্রচারপত্র বিতরণ, পথসভা, হাটসভা, মিছিল ও গণসংযোগ করা হবে। জানা গেছে, প্রতিটি বিভাগের সমাবেশের আগে ৫-৬ লাখ করে লিফলেট বিতরণ করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষও জানতে পারে ১০ দফার আন্দোলনের কথা।
এ সময় জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর নেতারা সংশিষ্ট ইউনিটের নেতাকর্মী নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠকের পাশাপাশি হাট-বাজার, পাড়া-মহলায় পদযাত্রা, প্রচারপত্র বিতরণ, পথসভা, হাটসভা, মিছিল ও গণসংযোগে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচিতে জেলার অধিবাসী কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক এমপি, বিগত নির্বাচনে দল মনোনীত এমপি প্রার্থী এবং আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য দলীয় এমপি প্রার্থীদেরও থাকতে হবে। বিভাগীয় সমাবেশ সফলে এসব কর্মসূচিতে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে জেলা, মহানগর, উপজেলা এবং সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবে দল। বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা সার্বিক কর্মসূচির সমন্বয়ের পাশাপাশি নেতাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেবেন।
বিভাগীয় সমাবেশ সফলে দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতাকর্মী-সমর্থক এবং জনসাধারণ যাতে বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে যোগ দেয়, সেজন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাবো। নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবো না। এক দলীয় নির্বাচন দেশে হতে ও দেবো না।

