‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইভিএম কেনার জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া এক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে আওয়ামী লীগ ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। এমন অবস্থায় ইসি যতগুলো আসনেই নির্বাচন করুক আওয়ামী লীগ মেনে নেবে।’
আজ শনিবার(২৮জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মামুদ।
ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইভিএম’এ নির্বাচন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন পৌনে নয় হাজার কোটি টাকার এক প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। যা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এত বড় প্রকল্প পাশ করে ইভিএম কেনা অর্থনীতির জন্য বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সমীচীন না। আমরা ইভিএম চাইলেও যেহেতু নির্বাচন কমিশন বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে সব আসনে তা দিতে পারছে না। নির্বাচন কমিশন যতগুলো আসনেই নির্বাচন করুক আমরা মেনে নেব।’
‘ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোতেও নির্বাচন হয়। দেশ এখন ডিজিটাল সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আমাদের দাবি ছিল যেন ইভিএম’এ ভোট হয়। এরশাদ, জিয়া এমনকি খালেদার নির্বাচনের সময় স্লোগান ছিল ‘১০ টা হু-া ২০ গু-া নির্বাচন ঠা-া’। ইভিএম- এ ভোট হলে এসব স্লোগান দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এগুলোকে বন্ধ করার জন্যই আমরা ইভিএম’এ নির্বাচন চেয়েছি’ বলেন তিনি।
বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত নির্বাচন সরকারের অধীনে হয় না। নির্বাচন হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সরকারের পক্ষে থানার একজন ওসি বা দারোগা বা ইউএনওকেও বদলি করার ক্ষমতা থাকে না। এ সমস্ত চাকরির সবগুলো নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়। তখন সরকার শুধু রুটিন কাজ করে। পৃথিবীর কোথাও এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। আছে শুধু পাকিস্তানে। বিএনপিতো পাকিস্তানকেই অনুকরণ করে।’
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি বাহানা করছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা বুঝতে পেরেছে তারা আসলে নির্বাচনে জিততে পারবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি পূর্ণ শক্তি দিয়ে অংশগ্রহণ করে ৩০টি আসন পায়। ২০১৪ সালের নির্বাচন তারা বর্জন নয় প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। গণতন্ত্রকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে তারা নির্বাচন প্রতিহত করতে চেষ্টা করেছিল।’
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় জোটের শরীক দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনসভাটি আওয়ামী লীগের জনসভা। এটি ১৪ দলীয় জোটের জনসভা নয়। তবে আমাদের জোটের শরীকরা আমন্ত্রিত। তারা আসতেই পারে। তারা আসলে বরং আমরা খুশি হব।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা স্থান মাদ্রাসা মাঠে সকলকে রবিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মাগুরা-২ আসনের এমপি সাইফুজ্জামান শেখর, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এমপি মেরিনা জাহান কবিতাসহ রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

