রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগ কাকে মনোনয়ন দিচ্ছে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। এ আলোচনায় আবদুল হামিদেও পরবর্তীতে কাকে বঙ্গবভনে পাঠাচ্ছেন তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ মুহূর্তে কেউ জানেনা। আওয়ামী লীগের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। কারণ দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এখনো এ বিষয়টি তার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেননি। কয়েক দিনের মধ্যে দলের সভা ডেকে তাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পাওে বলে দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সে সময় একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির রাষ্ট্রপতি পদে থাকা উচিত।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদ মূলত আলংকারিক। শুধু প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কাজটি ছাড়া বাকি সব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা প্রধানমন্ত্রীর উপদেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন। তবে নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতি কিছুটা গুরুত্ব পান। কারণ তিনি নির্বাচন কমিশনের উপযোগিতার সঙ্গে কাজ করা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিতে পারেন।
গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অনুযায়ী, ‘সরকারের সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষ কমিশনকে উহার দায়িত্ব পালনে সহায়তা প্রদান করিবেএবং এই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি, কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে, যে রূপ প্রয়োজন মনে করিবেন সেই রূপ নির্দেশাবলী জারি করিতে পারিবেন।’
আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী ও সংম্লিষ্টদেও আলোচনায় বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির নাম উঠে এসেছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসির ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন।যার ফলে আলোচনা আর ও উত্তপ্ত হয়েছে।
যেহেতুআওয়ামী লীগ সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, সেহেতু এ দলেরই একজন প্রার্থীকে আব্দুল হামিদেও উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচন করবেন দলের সদস্যরা।
৩৫০ সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাতে আছে ৩০২টি। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পাটির হাতে ২৬টি আসন। ওয়ার্কার্স পাটির ৪, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ও গণ ফোরামের ২টি করে, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টির (মঞ্জু) হাতে ১টি কওে আসন রয়েছে। বাকি ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
বিএনপির ৭ নেতা ও সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে তারা সম্প্রতি সংসদ থেকে পদ ত্যাগ করেছেন।
আবদুল হামিদ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘদিন ধওে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বর্তমান মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। সংবিধান অনুযায়ী, তাকে পুননির্বাচিত করার কোনো সুযোগ নেই।
সংবিধানের ৫০ (২) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ২ মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। এই ২ মেয়াদ পর পর ও হতে পারে, আবার ২ মেয়াদের মাঝে সময়ের ব্যবধানও থাকতে পারে।
২০১৩ সালের ১৪ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত ¡পান আব্দুল হামিদ। এর ৬ দিন পর জিল্লুর রহমান মারা যান।
এরপর ২২ এপ্রিল বিনা আপত্তিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন আব্দুল হামিদ। ২ দিন পর তিনি শপথ গ্রহণকরেন। ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আবার ও বিনা আপত্তিতে পুননির্বাচিত হন তিনি।
ইতোমধ্যে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সংসদের স্পীকার ড.শিরিন শারমিন চৌধুরীর নাম ছাড়াও আরো কয়েকটি নাম দলের নেতাকর্মীরা আলোচনা করছেন। আওয়ামী লীগের টানা ৩ বারের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম বেশ আলোচনায়। তবে ওবায়দুল কাদেও সম্প্রতি জানান, রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা এখনো তার হয়নি।
এ মন্তব্যকে দলের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, এ মন্তব্য ওবাদুল কাদেরের বিনয় প্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী তার নাম প্রস্তুাব করলে তিনি স¦নন্দে তা গ্রহন করবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেসিডিয়ামের একজন নেতা বলেন, ওবাদুল কাদের যোগ্য বলেই তাকে তিনবার দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তার মতো বিশ^স্ত নেতার রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়া দরকার। তিনি আরো একট ুআগ বাড়িয়ে বলেন, ওবায়দুল কাদেরকে রাষ্ট্রপতি নেবেন বলেই দলের আরেক নিষ্ঠাবান নেতা তর্থ্য ও সম্প্রসার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে দলের তিন নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে এক নম্বওে রাখার কারণ তাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তিনি যোগ করেন, সব কিছু নির্ভও করছে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের উপর।
জাতীয় সংসদেও স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম ও আলোচনার শীর্ষে। রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত শিরীন ২০১৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় সংসদেও সবচেয়ে তরুণ স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি এখনো এ দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানিয়েছে, দলের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মসিউর রহমানের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার বেশ সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী মসিউর সব সময় বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও সম্প্রতি তাকে জন সম্মুখে খুব একটা দেখা যায়নি। তিনি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্যও করেন নি বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগেরঅভ্যন্তরীণ সূত্র।
দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেত ুনির্মাণের জন্য ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সওে আসার জন্য তিনি বিশ্ব ব্যাংকের কড়া সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে কানাডার আদালতে দুর্নীতির সেই অভিযোগ খারিজ হয়।
দুর্নীতির তদন্তের সময় ঋণ দেওয়ার উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের দেওয় াশর্ত মেনে মসিউর ১ মাসের ছুটিতে গিয়েছিলেন।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি ও আইনকমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হকের নাম ও রাষ্ট্রপতি পদেও জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
পঞ্চম সংশোধনী নিয়ে খায়রুল হকের দেওয়া রায় অনুযায়ী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ও মেজর জেনারেল জিয়াউরর হমানের শাসনা মলকে অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তিনি বর্তমানে গাজীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ৩৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন কওে আসছেন।
অপর আলোচিত নাম হলো আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি আগে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীএবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
আইন মন্ত্রী আনিসুল হককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সম্প্রতি তিনি জানান, মানুষ খুব শিগগির জানতে পারবে কে হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

