দেশীয় চাল প্লাস্টিকের ব্যাগে বাজারজাত করলে, তা জব্দ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দিয়েছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ বুধবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় অধিবেশনে এই নির্দেশনা দেন তিনি।
অধিবেশন শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এক সময় কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে সমস্ত মোড়কে পাট পণ্য ব্যবহার হতো। প্লাস্টিক আবিস্কারের পর, পাট পণ্য থেকে প্লাস্টিকে চলে যাওয়ায় পাট পণ্যের ব্যবহার কমে যায়। এখন চেষ্টা করছি, সেই পাট পণ্য আবার ব্যবহার করতে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পাটের ব্যবহার বাদ দিয়ে চাল, ডাল কিংবা কৃষকের পণ্য প্লাস্টিক ব্যাগে বাজারজাত করার চেষ্টা করতো। সামারি কোর্ড করে তাদের সেগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়। ফলে আমরা অনেক লাভবান হয়েছি।’
পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইদানিং একটা লিকেজ আছে। লিকেজটা হলো যেহেতু চাল আমদানি হচ্ছে, বেশকিছু চাল আমাদের আমদানি করতে হয়েছে। সেই আমদানির চালগুলো প্লাস্টিকের বস্তায় আসে। এটার মাঝে ফাঁক দিয়ে তারা দেশের চাল প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমরা বলেছি, শুধু বিদেশি চাল প্লস্টিকের ব্যাগে থাকলে আপত্তি নেই। কিন্তু দেশীয় চাল যেখানে প্লাস্টিকের ব্যাগে আছে, সেগুলো সামারি কোর্ড করে জব্দ করবেন। তাহলে আমাদের পাট পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত হবে।’
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারি খাতে দেয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘পাটকলগুলো আমরা যখন গোল্ডেন হ্যাডশেক করেছি, সেসময় ডিসিরা অবদান রেখেছেন। পাটকলগুলো খুবই শান্তভাবে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেছে। প্রত্যেক শ্রমিক পাওনা পেয়েছে বিধায় শ্রমিকদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ সৃষ্টি হয়নি।’
পাটকলগুলোতে সরকারের মালিকানা রেখে তার ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে দিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ছয়টি মিল অলরেডি টেন্ডারে চলে গেছে। আরও ১১টি মিল টেন্ডারে দেয়া হয়েছে। আজকে সেই টেন্ডার ওপেন হবে। এরপর এগুলোর ম্যানেজমেন্ট বেসরকারি খাতে দেয়ার জন্য চেষ্টা করব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ডিসিরা কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি নিয়ে কথা বলেছেন। অনেক দেশে কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি হয়। আমাদের দেশে অনেক কলাগাছ হয়। কলাগাছ থেকে সুতা তৈরির বিষয়টি রিসার্চ ইনস্টিটিউটকে বলব।’

