ওয়াজ নসিহতের নামে ভুল তথ্য ছড়ানোর মামলায় দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় বিতর্কিত বক্তা মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে ১৫ মাস ১৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ, এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে দোষ স্বীকার করেন কাজী ইব্রাহিম। গ্রেপ্তারের পর থেকে এ পর্যন্ত কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিমের কারাভোগকে সাজা হিসেবে প্রদান করেন আদালত। সে হিসেবে তার এক বছর তিন মাস ১৯ দিনের কারাভোগের সাজা হয়।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন
তিনি বলেন, এদিন মামলাটি চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য তারিখ ধার্য ছিলো। আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানি করি। তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন আদালত। এরপর বিচারক তার কাছে জানতে চান, তিনি দোষী না নির্দোষ। তখন কাজী ইব্রাহিম নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে থাকার সময়কে সাজা হিসেবে আদেশ দেন।
২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডের বাসা ঘেরাও করলে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ‘হিন্দুস্থানের দালাল ও র-এর এজেন্ট বাড়ি ঘিলে ফেলেছেন’ বলে প্রচার করেন। এরপর তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে নানান বক্তব্য দেওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করে ডিবি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার পর ওই বছর ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে জেড এম রানা নামে একজন একটি স্কুলের টাকা আত্মসাৎ, চাঁদা দাবি এবং প্রতারণার অভিযোগে ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই রিমান্ড শেষে ২০২১ সালের ২ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
ওয়াজমাহফিল, ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মুফতি কাজী ইব্রাহিম নানান বক্তব্য দিয়ে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। তার সমালোচিত মতবাদের মধ্যে একটি হলো- করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার কারণে নারীর দাড়ি গজাচ্ছে, পুরুষের কণ্ঠ পাল্টে নারীকণ্ঠ হচ্ছে’। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের বরাত দিয়ে এ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন নিয়েও বিতর্ক আছে।

