গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির গণশুনানি শুরু হচ্ছে কাল রবিবার (৮ জানুয়ারি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি এবং সংস্থার আবেদনের ওপর রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিতব্য গণশুনানি চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কোনো কারণে রবিবার শুনানি শেষ না হলে চলবে সোমবার পর্যন্ত।
বিইআরসি গত ২১ নভেম্বর পাইকারি বা বাল্ক বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নভেম্বরের শেষ থেকে এবং ডিসেম্বরের শুরুতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। কমিশন বৈঠকে আবেদনগুলো গৃহীত হওয়ার পর দাম বৃদ্ধির গণশুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
উত্তরের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি নেসকো তাদের আবেদনে বলছে, ২১ নভেম্বর দাম বৃদ্ধির আগে তাদের গড়ে (সঞ্চালনসহ) ইউনিট প্রতি পিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে খরচ হতো পাঁচ টাকা ৩৪ পয়সা। এখন দাম বৃদ্ধির ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ছয় টাকা ২০ পয়সা। এতে বছরে তাদের অন্তত ৫৩৫ কোটি টাকা লোকসান হবে।
একইভাবে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহের শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, দাম না বাড়ালে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২৩৪ কোটি টাকা।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) তাদের আবেদনে বলেছে, দেশের ৮০টি সমিতির মাধ্যমে তারা গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ বিতরণ করে। গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে আরইবির লোকসান ছিল ৫২৪ কোটি টাকা। এখন দাম বৃদ্ধির ফলে এক হাজার ১২৭ কোটি টাকা লোকসান হবে। আরইবি দেশের মোট বিদ্যুতের অর্ধেকের বেশি বিতরণ করে।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) তাদের আবেদনে জানিয়েছে, দাম বাড়ানো নাহলে আগামী অর্থবছরে তাদের ঘাটতি হবে এক হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। একইভাবে ঢাকার অপর বিতরণ কোম্পানি ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির আবেদনে বলা হয়েছে, দাম না বাড়ালে তাদের লোকসান হবে এক হাজার ৪০২ কোটি টাকা। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বলছে, গত অর্থবছরে তাদের সাড়ে সাত কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। এখন দাম না বাড়ালে আগের মতোই লোকসান অব্যাহত থাকবে।
গত ২১ নভেম্বর বিতরণ কোম্পানির জন্য পাইকারি দাম ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ বাড়ানো হয়। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বশেষ দাম বেড়েছিল ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি।
তেল চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকার পাশাপাশি সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি না কেনার ফলে দীর্ঘদিন বিদ্যুতের উৎপাদন খরচে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এজন্য প্রথম দফায় পাইকারি দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিইআরসি।

