যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় কর্মসূচি হিসেবে আগামী ১১ জানুয়ারি দেশের ১০ বিভাগীয় শহরে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি শুরু দলটি। এ দিনকে সফল করতে বিএনপির সমমনা জোট ও দল গুলোর নানা প্রস্তুুতি মূলক সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, বর্তমান সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এ সরকারের পতনের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচী গুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগনও ঝাপিয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, ১১ জানুয়ারির গন অবস্থান কর্মসূচী হবে আগের কর্মসূচী গুলোর চেয়েও সফল। সারাদেশে কর্মসূচী সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হয়েছে। নেতারা সারাদেশে ভাগ হয়ে কর্মসূচীতে অংশ নেবেন।
জানা গেছে, গন অবস্থান কর্মসূচীতে বিএনপি একা অবস্থান নিলেও জোট শরীক দলও জোট গুলো নিজ নিজ অবস্থানকে জানান দেবেন। ৬ দলীয় জোট ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জমায়েত করবে। ১২ দলীয় জোট বিজয় নগর বা কাকরাইলে অবস্থান নেবে। এলডিপি, গণফোরাম ও বামজোট পৃথক পৃথক স্থানে অবস্থান নেবে।
নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার স্লোগান নিউজকে বলেন, গন অবস্থান কর্মসূচী নিয়ে আমাদের সব নেতারা প্রতিদিন নানা সভা সমাবেশে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদেরকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। জেলা নেতাদের কাছেও কর্মসূচী সফল করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জোটের শরীক সব দল প্রস্তুতি কাজকে এগিয়ে নিচ্ছে। গত ৩০ ডিসেম্বরের গনমিছিলের চেয়ে আরো জোরালো হবে অবস্থান কর্মসূচী । এদিন নতুন আরো কর্মসূচী দেয়া হবে। হরতাল বা অবরোধের মতো কোন কর্মসূচী আসবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন এ প্রসঙ্গে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে গত বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিভাগীয় গণঅবস্থান কর্মসূচি সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা বিভাগের দলনেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, চট্টগ্রাম বিভাগের দলনেতা মো. শাহজাহান, ময়মনসিংহ বিভাগের দলনেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, ঢাকা বিভাগের দলনেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, খুলনা বিভাগের দলনেতা শামসুজ্জামান দুদু, রাজশাহী বিভাগের দলনেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, ফরিদপুর বিভাগের দলনেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সরোয়ার, সিলেট বিভাগের দলনেতা যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল বিভাগের দলনেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী-খান সোহেল এবং রংপুর বিভাগের দলনেতা দলের যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর-রশিদ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলনেতাদের সঙ্গে কর্মসূচি পালনে সমন্বয় করবেন সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওই বিভাগের অধিবাসী জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতা, সাবেক এমপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অথবা আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক অথবা সদস্য সচিব; জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অথবা আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক অথবা সদস্য সচিব অথবা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

