সরকারে থাকলে সমালোচনা হবে। সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বলেন, ‘সরকারে থাকলে সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতাও থাকতে হয়। আর সেই ক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে।’
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাতীয় সম্মেলনে সোমবার(২জানুয়ারি) দুপুরে তিনি একথা বলেন।
রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ও বৈষম্যহীন উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জাতীয় সম্মেলন করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সম্মেলনে বক্তরা সরকারের সমালোচনা করছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং আপনাদের (ইসলামী আন্দোলন) কেউ কেউ সরকারের সমালোচনা করছিলেন। দায়িত্বে থাকলে ভুল হবে। সরকারে থাকলে সমালোচনা হবে।’
যে গাছে ফল ধরে সে গাছেই মানুষ ঢিল মারে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুনিয়ার কোনো সরকারই শতভাগ নির্ভুল কাজ করতে পারে নাই। কোনো সরকার আগামী শত বছরেও নির্ভুল কাজ করতে পারবে কি না সন্দেহ আছে।’
সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ভালো কাজের প্রশংসা না থাকলে কাজের উৎসাহ কমে যায়। ভালো কাজের প্রশংসা করতে হবে, খারাপ কাজের সমালোচনাও করতে হবে। আমরা মনে করি, ভুলের সমালোচনায় ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকে।
দেশের কল্যাণে রাজনৈতিক দলগুলোকে সাংঘর্ষিক রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসারও পরামর্শ দেন তিনি।
সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলুর দিকে ইঙ্গিত করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সম্মেলন করেনি। ইসলামী আন্দোলনও বলতে পারত, তারা বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে সম্মেলন করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। কারণ তারা মনে করেছেন ওখানে করতে গেলে মুসল্লিদের নামাজের সমস্যা হবে।’
অতীতে বিভিন্ন সরকার কওমি মাদরাসার স্বীকৃতির বিষয়ে ‘মুলা ঝুলানো নীতিতে’ ছিলো অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি বহু বছরের পুরোনা দাবি। সেই দাবি পূরণ করা হবে বলে মুলা ঝুলিয়ে রাখা হতো। খালেদা জিয়া এবং এরশাদ সরকার মুলা ঝুলিয়ে রেখেছেন, জিয়াউর রহমানও মুলা ঝুলিয়ে রেখেছেন সেটা বলবো না। তবে এটা ঝুলিয়ে রাখা হতো বা করা হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুলা ঝুলিয়ে না রেখে সেই দাবি পূরণ করেছেন।

