আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চাঙ্গা হয়ে উঠছে দেশের জোট রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৩৯ রাজনৈতিক দলের কিছু দল এবং অনিবন্ধিত বেশ কিছু দল আলাদা জোট গঠনে তৎপর রয়েছে। এক জোট থেকে অন্য জোটে ভিড়ছে কোনো কোনো দল।
এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের মান-অভিমান নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। অতীতের ভুলত্রুটি, অবহেলা ও বঞ্চনা ভুলে দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে স্ব স্ব বলয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যথাযথ মূল্যায়ন এবং নির্বাচনে সম্মানজনক আসন বণ্টনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দল দুটি।
এদিকে আজ সোমবার আন্দোলনরত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য দলের সাতজন সিনিয়র নেতার সমন্বয়ে লিঁয়াজো কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বসে নেই। ইতোমধ্যে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। জোটের বাইরে সমমনা ছোট দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পাটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরকে গণভবনে ডেকে একান্ত কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তবে গেল নির্বাচনে বিএনপির জোটের সঙ্গেই ছিলেন কাদের সিদ্দিকী। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। তাদের কিছু দাবি-দাওয়া পূরণের ব্যাপারেও তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে পর্দার আড়ালে আরও বেশ কিছু দলের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যোগাযোগ করছেন।
অন্যদিকে সরকারবিরোধী নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপিও। নির্দলীয় সরকারের অধীনে দাবিসহ ১০ দফা এবং ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা বাস্তবায়নের ভিত্তিতে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে সরকারবিরোধী বেশ কিছু দল। ৭ দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ভেঙে সরকারবিরোধী নতুন দুটি জোট হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২ দলীয় একটি জোট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর আত্মপ্রকাশ করবে ১০ দলের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী ঐক্যজোট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বলয়ের বাইরে বাম ও প্রগতিশীল পাঁচটি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করবে দ্বিদলীয় ‘বিকল্প শক্তি’।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগসহ ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট এবং সমমনা নিবন্ধিত রয়েছে ১৪টি দল। এর মধ্যে ১৪ দলীয় জোটে নিবন্ধিত রয়েছে ৮টি। সমমনা দল রয়েছে আরও ৪টি এবং ধর্মভিত্তিক ২টি দল। সরাসরি রাজনৈতিক দল না হলেও ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামেরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে সুসম্পর্ক। এ ছাড়া ৬টি অনিবন্ধিত দলসহ সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ২০টি দল রয়েছে আওয়ামী লীগের সমর্থনে।
বিএনপিসহ তাদের নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পালনে ঐকমত্য পোষণকারী নিবন্ধিত দল ৭টি। অনিবন্ধিত আরও ২৬টি দল রয়েছে বিএনপির সঙ্গে। ইতোমধ্যে মোট ৩৩টি সমমনা দল বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চের ৭ দল, ১২ দলীয় জোট ঘোষণা করেছে। আগামী বুধবার ঘোষণা করবে জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্যজোট।
এ ছাড়া বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বলয়ের বাইরে বাম ও প্রগতিশীল ‘বিকল্প শক্তি’র জোটে ৩ দল, কোনো জোটে নেই ধর্মভিত্তিক ইসলামী ৬টি দল এবং জোটবদ্ধ নয় এমন আরও ৮টি নিবন্ধিত দল রয়েছে। এ দলগুলো এখনও কোনো দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ ও যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা করেনি।
১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মোকাবিলায় ১৪ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধ কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আমরা সক্রিয় রয়েছি। জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা মোকাবিলা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে জোট গঠন হয়েছে। এ আদর্শে বিশ্বাসী আরও যেসব দল রয়েছে তারাও ১৪ দলের সঙ্গে একত্রে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে পারে। আমরা তাদের স্বাগত জানাব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে আজ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার নেই বললে চলে। রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা এবং ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র মেরামতে ২৭ দফা রূপরেখা দিয়েছি। ইতোমধ্যে বিএনপির এ দাবি ও রূপরেখার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ৩৩টি রাজনৈতিক দল। দাবি আদায়ে তারা বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে। আমরা দেশপ্রেমিক অন্য রাজনৈতিক দলকেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এ আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাব।
বড় হচ্ছে ১৪ দলীয় জোট
১৪ দলীয় জোটে কার্যত ১৩ দল ছিল। সম্প্রতি শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ বেরিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে আছে ১২ দল। এর মধ্যে নিবন্ধিত আটটি। আওয়ামী লীগ ছাড়া বাকি নিবন্ধিত দলগুলো হচ্ছে- রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), দিলীপ বড়ূয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল, ব্যারিস্টার মো. আরশ আলীর নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী পার্টি, আমিনা আহমদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (মোজাফফর), আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জেপি ও সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির নেতৃত্বাধীন তরীকত ফেডারেশন। অনিবন্ধিত চারটি দল হচ্ছে- এস কে সিকদারের নেতৃত্বাধীন গণআজাদী লীগ, জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট কেন্দ্র এবং রেজাউর রশীদের নেতৃত্বাধীন বাসদ (রেজাউর)।
কোনো জোটে না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রতি প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে অধ্যাপক ডা. বদরুদোজ্জা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ)।
ধর্মভিত্তিক দলের মধ্যে সরাসরি জোটে না থাকলেও আওয়ামী লীগের সমর্থনে রয়েছে নিবন্ধিত দুটি দল। দলগুলো হলো- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। এরা আহলে সুন্নাত ও মাজারপন্থি দল হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া অনিবন্ধিত দলের মধ্যে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপিও আওয়ামী লীগের সমমনা হিসেবে পরিচিত। দলটিকে নিবন্ধন দিতে ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছেন।
গণতন্ত্র মঞ্চ
গত ২২ আগস্ট সাতদলীয় জোটের ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ আত্মপ্রকাশ করে। এর মধ্যে নিবন্ধিত দল দুটি। সেগুলো হচ্ছে- আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। এ জোটটি এরই মধ্যে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।
অনিবন্ধিত দল পাঁচটি- মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন গণসংহতি আন্দোলন, ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ, রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও হাসনাত কাউয়ুমের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
১২ দলীয় জোট
২০ দলীয় জোট ভেঙে গড়ে ওঠা ১২ দলীয় জোটে নিবন্ধিত দল দুটি। সেগুলো হচ্ছে- মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং অ্যাডভোকেট জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)। নবগঠিত এ জোটটিও বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করবে।
বাকি ১০টি অনিবন্ধিত। সেগুলো হলো- মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (জাফর), ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেবার পার্টি, সৈয়দ এহসানুল হুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় দল, ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের নেতৃত্বে জাগপা, কেএম আবু তাহেরের নেতৃত্বে এনডিপি, শাহাদাত হোসেন সেলিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এলডিপি, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরামের নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, মাওলানা আবদুর রকীবের নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট, কমরেড নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল এবং অ্যাডভোকেট আবুল কাসেমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি জাগপা।
নতুন এই জোটের নেতৃত্বে থাকবেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার। মুখপাত্র হিসেবে থাকবেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। আর গণমাধ্যম সমন্বয় করবেন শাহাদাত হোসেন সেলিম।
জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্য জোট: ২০ দলীয় জোটের শরিক দলসহ জোটের বাইরের আরও কয়েকটি দল নিয়ে আগামী বুধবার আলাদা আরেকটি জোট গঠন করতে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১০টি দল এ জোটে থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশ্য দলগুলোর কোনোটিই নিবন্ধিত নয়। আরও কয়েকটি দল জোটটিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। আরেকটি জোট করার পেছনে শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সম্ভাব্য এ জোটের নাম হচ্ছে- ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা ঐক্য জোট’। শীর্ষ নেতা হচ্ছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এ জোটটি বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
দলগুলো হচ্ছে- ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), অ্যাডভোকেট মাওলানা আবদুর রকীবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্য জোট, সাদেক শাওনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ, অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী), সাইফুদ্দীন মনির নেতৃত্বাধীন ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ পিপলস লীগ, অধ্যাপক নূরুল আমীন বেপারীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, গোলাম মাওলার নেতৃত্বাধীন গণদল, নূরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি।
বাম- প্রগতিশীলদের ‘বিকল্প শক্তি’
আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির বলয়ের বাইরের সমমনা বাম ও প্রগতিশীল দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে যাচ্ছে। নতুন জোট গঠন বা দলগতভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে এক সঙ্গে পথচলার প্রাথমিক আলোচনা শেষ করেছে তারা।
শিগগির সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্তের আলোকে রূপরেখার খসড়া তৈরি করবেন তাঁরা। আগামী জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবেই নতুন বিকল্প শক্তিটি রাজপথে নামার ঘোষণা দিতে পারে। অবশ্য উদ্যোগী নেতারা বলছেন, এটি হবে দেশের বর্তমান দ্বিদলীয় ধারার রাজনীতির বাইরে একটি ‘বিকল্প শক্তি’।
সম্ভাব্য এ জোটের পাঁচটি দলের মধ্যে নিবন্ধিত তিনটি দল। দলগুলো হচ্ছে- ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাসদ (খালেকুজ্জামান)। অনিবন্ধিত ঐক্য ন্যাপ (পংকজ) ও জাসদ ভেঙে ১৪ দল বেরিয়ে আসা বাংলাদেশ জাসদ (আম্বিয়া)। অবশ্য গেল নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে শীর্ষ নেতা হয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন।
এদিকে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেছে নিবন্ধিত দুটি দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্য জোট। তবে দল দুটি একাংশ করে বিএনপির সঙ্গে রয়ে গেছে, যাদের নিবন্ধন নেই।
নিবন্ধিত দলগুলোর মধ্যে যারা কোনো জোটে নেই, তাদের মধ্যে রয়েছে- চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক) এবং খেলাফত মজলিস (ইসহাক)। এ দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা করেছেন চরমোনাই পীর। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তাঁরা ধারাবাহিক বৈঠক করেন। বিএনপির কর্মসূচি শুরুর পর এখন নীরব রয়েছেন তাঁরা। আওয়ামী লীগ এদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।

