আজ বুধবার(২অক্টোবর) বহুল প্রতিক্ষিত চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা ও ফটিকছড়ির পৌরসভা নির্বাচ নির্বাচন। কর্ণফুলী উপজেলায় বেশ জমেছিল নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা। উপজেলা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট হওয়ায় উৎসাহিত ভোটাররা। এরই মধ্যে গতকাল (সোমবার) মধ্যরাতে নির্বাচনের প্রচারণার শেষ হয়েছে। উপজেলার বড়উঠান, শিকলবাহা, জুলধা, চরলক্ষ্যা ও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের অলিগলিতে সর্বত্র ঝুলছে প্রার্থীদের পোস্টার। সেই সঙ্গে দিনরাত এক করে বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোট চাইলেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দলীয় পরিচরের পাশাপাশি সামনে তুলে আনছেন নিজেদের পরিচিত। উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৭২ জন। উপজেলা গঠনের পর দ্বিতীয় বারের মত ২ নভেম্বর নির্বাচনে ৪৫টি কেন্দ্রের ৩২০টি বুথে ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে ভোট গ্রহণ। তবে বুথে থাকছে না কোনো সিসি ক্যামেরা।
বড়উঠান ইউনিয়নের তরুণ ভোটার মোহাম্মদ বেলাল বলেন, উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম চালানোর জন্য দক্ষ ও মেধাবী লোকের প্রয়োজন। নতুন উপজেলার নতুন নতুন দপ্তরের প্রয়োজন। যাতে করে আমরা সবধরণে সেবা গুলো এক স্থান থেকেই পেতে পারি। এ গুলোর জন্য দক্ষ হিসেবে তরুণ প্রজন্মের ভোটার ও বৃদ্ধরা পুরাতনের উভর ভরসা রেখেছে। উপজেলার উন্নয়নের জন্য আমাদের ভোটটা মুক্তিযোদ্ধা স্বপক্ষে দিবো। আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুক চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এখনও চলছে উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড। এসব অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে। সাধারণ ভোটার আমার পক্ষে আছে। নির্বাচিত হলে উপজেলাবাসীকে কাঙ্খিত উন্নয়নসহ নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো।
উন্নত নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক উপজেলা গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, সংসদে আমাদের অভিভাবক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি মহোদয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এখন শুধু সঠিক কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা। শেষদিন পর্যন্ত জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে কর্ণফুলীকে আধুনিক শহর বানাতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২ প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৬ প্রার্থী। তারা হলেন, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী (নৌকা), বিদ্রেুাহী মোহাম্মদ আলী (আনারস), ভাইস চেয়ারম্যান পদে জুলধা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যাংকার আমির আহমদ (চশমা), যুবলীগের সহ সভাপতি মো. মহিউদ্দিন মুরাদ (উড়োজাহাজ), মো. আবদুল হালিম (তালা), মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিকলবাহার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম বকুলের কন্যা ডাক্তার ফারহানা মমতাজ (ফুটবল), মোমেনা আক্তার (কলস), বানাজা বেগম (হাঁস) এবং রানু আকতার (বৈদ্যুতিক পাখা) মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘এ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনে যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে পুলিশ সর্বদা মাঠে রয়েছে। এদিকে প্রার্থীরা যাতে আচরণবিধি লঙ্খন না করতে পারেন, সেদিকে নজরদারী রাখছে প্রশাসন। এমনটায় জানিয়েছেন নিযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পিযুষ কুমার চৌধুরী।
অপরদিকে ফটিকছড়িতে পৌরসভার ভোটযুদ্ধের হিসেব মিলানো কঠিন। অতীতে সেখানে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক পদে বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। এমনকি উপজেলা পরিষদেও বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ফটিকছড়ি পৌরসভা নির্বাচনেও এবার নৌকার প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে মেয়র পদে লড়ছেন এএসএম মিনহাজুল ইসলাম জসিম। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে জমজমাট। মেয়র পদ ছাড়াও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফটিকছড়িতে ১৯টি কেন্দ্রের ১০৩টি বুথে ভোট প্রদান করবেন ৩৬ হাজার ২৪৬ ভোটার। নির্বাচনী নিরাপত্তায় ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ফটিকছড়ি পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে চাই। নির্বাচনে যাতে কোনোধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনও তৎপর আছে। এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকল প্রার্থীই শান্তিপূর্ণভাবে প্রচারণা চালিয়েছে। ভোটের দিনও আশাকরি এমন অবস্থা বিরাজমান থাকবে।’
ইমা

