এ সময়ের একজন তুখোড় এবং জনপ্রিয় আবৃত্তিশিল্পী। আবৃত্তি কলাকৌশল নিয়ে তাঁর যথেষ্ট দখল আছে- এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। ইতোমধ্যে প্রকাশিত তাঁর লেখা ‘ছোটোদের আবৃত্তি’ গ্রন্থে তিনি আবৃত্তি ও আবৃত্তিশিল্পের পুঙ্খানুপুঙ্খ দিক বিশ্লেষণ করেছেন।
তিনি আবৃত্তিশিল্পকে ধারণ করেছেন ধ্যান-জ্ঞান ও মননে।
আবৃত্তি চর্চা নিয়ে তাঁর ভাবনা তিনি বলেন –
যে কোনো শিল্প মাধ্যম নিয়ে চর্চাই শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির অন্তর্গত সৌন্দর্য পিপাসার বহি:প্রকাশ। বাচনিক শিল্পে যে অংশে আবৃত্তির অবস্থান তার অনেকটা অধিকার করে আছে লিখিত সাহিত্যের কাছে আবৃত্তিকারের ঋণ।
আবৃত্তি নামক বাকশিল্পটির পরিচর্যা চলে আসছে মানব সভ্যতার ঊষাকাল থেকে। অন্তরের ভাবকে,আবেগ উত্তেজনাকে যথার্থভাবে উপস্থাপনের জন্য স্মৃতির ও শ্রুতির উপর নির্ভর করতে হয়েছে।
ভাষার ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন করতে হয়েছে। অনেক অনেক কিছুর মধ্যেও কয়েকটি বিষয় আমাকে বেশ ভাবায় ও আলোড়িত করে। সেই অনেক কিছুর কিছু বিষয়ের মধ্যে প্রধান যে বিষয়,সে হলো অনুভব। আর এই কথাগুলো একান্ত আমারই অনুভব।
শ্রোতাদের কাছে সার্থকভাবে প্রকাশ পেলেই শব্দ অনুভবের খেলা সার্থক হয়ে ওঠে। অনুভবের ভিতর দিয়ে আবেগের পরিমিত ও সংহত প্রকাশই হলো সার্থক প্রকাশ।
সার্থক প্রকাশ বা আবৃত্তির জন্যে তাই শব্দের অনুভবের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই এই কথাগুলো বলবার চেষ্টা করলাম।

