চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৩০ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় তিন ভাইসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান মজুমদারের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— কবির আহম্মেদ, নজরুল ইসলাম, দিল মুহাম্মদ এবং দুলা মিয়া, হারুনুর রশিদ ও মোহাম্মদ আলী প্রকাশ লাল মোহাম্মদ।
চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, রায়ে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস সাজা খাটতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বড়ঘোনা বেড়ি বাঁধের ওপর একটি চায়ের দোকান ছিল। কাছাকাছি দোকান ছিল একই গ্রামের সাবের আহমদের। সাদ্দাম দোকান চালুর পর সাবেরের দোকানে বিক্রি কমে যায়। সাবের ও তার ছেলেরা কয়েকদফা সাদ্দামকে সেখান থেকে দোকান সরিয়ে নিতে হুমকি দেন। কিন্তু সাদ্দাম দোকান চালু রাখেন। ঘটনার দিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে সাবের আহমদ তার ছেলে ও সহযোগীসহ মিলে ওই দোকানে হামলা করে। প্রাণ বাঁচাতে সাদ্দাম দৌড়ে নিজের ঘরে চলে যায়। তার বাবা-মা তাকে ভেতরে রেখে বাইরে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। সাদ্দাম কাঁচা বসতঘরের ছাদে আশ্রয় নেয়। হামলাকারীরা বাড়িতে এসে দরজার তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে সাদ্দামকে খুঁজে বের করে আনে। ছাদ থেকে লাথি মেরে তাকে নিচে ফেলে দেয়। এরপর নিমর্মভাবে মারধরের একপর্যায়ে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত এসে যায়। এরপর হামলাকারীরা সেখান থেকে গিয়ে রাস্তায় পাহারা বসায়। সাদ্দামকে তার বাবা হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোহাম্মদ জানে আলম ১২ জনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এরমধ্যে মামলা চলাকালে অভিযোগ পত্রের ৬ আসামি মৃত্যুবরণ করেছেন। বাকি ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
ইউডি

