চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানাধীন চট্টেশ্বরী রোডে রিকশায় করে আনা ৪৫ লাখ টাকার হার্টের রিং আত্মসাতের ঘটনায় মূল হোতা মো. সুমন (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টেশ্বরী মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুমন মাদারীপুর জেলার নয়াকন্তি বাজেদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আক্কাস ব্যাপারির ছেলে। তিনি চট্টগ্রামে ভাড়ায় রিকশা চালাতেন।
পুলিশ জানায়, কার্ডিয়াক কেয়ার নামে একটি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সাপ্লাই প্রতিষ্ঠানের সহকারী মার্কেটিং অফিসার ও চট্টগ্রাম প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন কাজী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা (৩৯)। গত ২৪ অক্টোবর নগরের কাজির দেউরির এস এ পরিবহনে কার্ডিয়াক কেয়ারের ঢাকা অফিস ৫৮টি প্রতিস্থাপনযোগ্য হার্টের রিং পাঠান। যার মূল্য ৪৫ লাখ টাকা। এসব রিং চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেডিকেল সেন্টারে সরবরাহের জন্য কুরিয়ার করে। তাই চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে গোলাম মোস্তফা এস এ পরিবহনে এসে ২টি কার্টনে করে পাঠানো পণ্যগুলো গ্রহণ করেন। পরে তিনি পণ্যগুলো নিয়ে সিএসসিআর মেডিকেল সেন্টারে যাওয়ার জন্য একটি রিকশা ভাড়া করেন। ওই রিকশা করে চকবাজারের চট্টেশ্বরী মোড়ে এলে রিকশাচালক বলেন, তার রিকশাটি বিকল হয়ে গেছে। রিকশা ঠিক করার জন্য গোলম মোস্তফাকে নামতে বলেন ওই চালক। গোলাম মোস্তফা রিকশা থেকে নেমে একপাশে দাঁড়ালে একজন জোড় করে ধাক্কা লাগায় এবং নিজের মোবাইলটি রাস্তায় ফেলে দিয়ে তর্কাতর্কি করে। তবে তিনি কিছু বুঝে উঠার আগেই ওই রিকশাচালক তার পণ্যগুলো নিয়ে উধাও হয়ে যান।
পরে তিনি ওই রিকশাচালককে অনেক দিকে খোঁজেন এবং সিএসসিআর মেডিকেলেও যান। এরপরও ওই রিকশাচালককে আর পাননি। পরের দিন ২৫ অক্টোবর নিজে বাদী হয়ে চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের প্রায় ২৫টি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার করে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মূল হোতা ওই রিকশাচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার তথ্য মতে কোতোয়ালী থানাধীন আটমার্চিং মোড়ের ফোর স্টার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে আত্মসাৎকৃত পণ্যগুলো উদ্ধার করা হয়।

