চট্টগ্রামে বাসা থেকে ‘তুলে নেয়ার’ পরদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক নুরুল আলমকে পুলিশি হেফাজতে হত্যার অভিযোগে তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঞার আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে একই আদালতে ওই আবেদন করেন মিজানুর রহমান নামের জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা।
এতে বিবাদী করা হয়েছিল ২০১৭ সালে রাউজান থানার দায়িত্ব পালন করা এসআই শেখ মো. জাবেদ, ওসি মো. কেফায়েত উল্লাহ ও তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাকে। নুরে আলম মিনার এখন রংপুরের পুলিশ কমিশনার হিসাবে কর্মরত। আর রাউজান থানার তৎকালীন ওসি কেফায়েত উল্লাহ বর্তমানে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত।
মামলার আবেদনে বলা হয়, নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকার বাসা থেকে নুরুল আলম নুরুকে ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রাত ১২টায় পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পর দিন সকালে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের কোয়েপাড়া খেলারঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে হাত-পা নাইলনের দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নুরুল আলম নুরুর মরদেহ পাওয়া যায়। শার্ট দিয়ে চোখ ও ওড়না দিয়ে তার মুখ বাঁধা ছিল। মাথায় দুটি গুলির চিহ্ন ছিল। চন্দনপুরার বাসা থেকে নুরুল আলম নুরুকে রাউজানের নোয়াপাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে রাত তিনটা পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দুপুরে আবেদনকারীর আইনজীবী মাহফুজার রহমান ইলিয়াস বলেছিলেন, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ (২) ধারায় মামলার আবেদনটি করা হয়েছে। আদালত আমাদের আবেদনটি শুনলেও কোনো আদেশ এখনও দেননি।
এরপর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, ৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হেফাজত মৃত্যু আইনের ১৫(২) ধারায় আদালত বাদীর ২০০ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। নথি পর্যালোচনা ও সার্বিক বিষয়ে বিবেচনায় করে মামলাটি খারিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

