ইরানের ফুটবল বিশ্বকাপ মিশনে ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে উঠেছে ইরানিরাই। ইরানের ফুটবলার এবং ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা নিজেরাই ফিফার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্বকাপে ইরানকে নিষিদ্ধ করতে।
চিঠিতে তারা জানিয়েছে, ইরানে যদি নারীদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয় এবং ইরানের ফুটবল ফেডারেশন কেবলমাত্র সরকারী নির্দেশ অনুসরণ এবং প্রয়োগ করে। তবে সেটা স্পষ্টতই ফিফার আইনের লংঘন। – খবর বিবিসি
কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ২৬ দিন বাকি থাকতে স্পেনের আইনজীবী ফার্ম রুইজ-হুয়ের্তা অ্যান্ড ক্রেসপোর মাধ্যমে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি তাদের আবেদনে কেবল ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা নয় একই সঙ্গে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ স্থগিত করতেও ফিফার কাছে আবেদন করেছে। ফুটবল ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামে নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইরান সরকার। তারই প্রেক্ষিতে এমন আত্মাহুতিমূলক চিঠি ফিফা বরাবর পাঠানো হয়েছে।
বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘আইনি প্রতিষ্ঠান রুইজ-হুয়ের্তা অ্যান্ড ক্রেসপোর মাধ্যমে ইরানের ফুটবল এবং অন্যান্য খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্বরা মিলে ফিফা এবং তার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনকে তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি করা হয় এবং তা ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ থেকেই কার্যকরের অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হিজাব নীতি না মানায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাসা আমিনি নামের এক তরুণী দেশটির পুলিশের হেফাজতে নিহত হন। এর পর থেকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ইরানে। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মানুষ মারা গেছেন। এরই প্রতিবাদে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ করা হয়েছে ফিফার কাছে।
২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া কাতার বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে এশিয়ার এই দলটি। যেখানে তাদের সঙ্গে গ্রুপে আরও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস।
ইউডি

