চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও চেয়ারম্যান পদে দশ বছর আট মাস ৯ দিন দায়িত্ব পালন শেষে রোববার (২৩ অক্টোবর) শেষ কর্মদিবস পার করলেন মোহাম্মদ আবদুস সালাম। শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের মতবিনিময় করেন বিদায়ী এই প্রশাসক।
মতবিনিময়কালে আবদুস সালাম বলেন, দায়িত্ব নেয়ার সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ছিল জরাজীর্ণ। এই জরাজীর্ণ পরিষদকে ধাপে ধাপে স্বাবলম্বী করেছি। ২০০৮ সালে দায়িত্ব নেয়ার সময় বাজেট ছিল ২৬ কোটি টাকা; বর্তমানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকায়। এসব বাজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নিজস্ব আয়বর্ধক প্রকল্পের অর্থায়নে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, দুইবার প্রশাসক ও একবার নির্বাচিত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে চট্টগ্রাম নগরীসহ ১৫ উপজেলায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে-৩ হাজার ৫৭০টি সড়কের উন্নয়ন, ৯৬টি ড্রেন, ৬১টি কালভার্ট, ৫৮৩টি গাইডওয়াল/রিটার্নিং ওয়াল, ১৬৪৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন, ২৫০৬টি মসজিদে উন্নয়ন, ৭৫৫টি মন্দির, বিহার ও আশ্রমে উন্নয়ন, ৭১৭টি কবরস্থান ও শশ্মান উন্নয়ন, ১৫২টি ঈদগাহ উন্নয়ন, ১৫২টি শহিদ মিনার নির্মাণ, ৮৯টি ঘাটলা নির্মাণ, ৬৯২টি নলকূপ স্থাপন, ৪২টি যাত্রী ছাউনি নির্মাণ, ৩টি ডেইরি ফার্ম, ৪টি পোল্ট্রি ফার্ম, ৪টি অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস, ১১টি পাবলিক লাইব্রেরী, ৩৬টি স্মৃতিস্তম্ভ, ১৩টি সুপার মার্কেট, ২৯টি পাবলিক টয়লেট, ১৪টি ডাকবাংলো, ১৮টি মার্কেট, ৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ১০ ফেরিঘাটের উন্নয়ন, ৩টি শিশু পার্কের উন্নয়নকাজ এবং অস্বচ্ছল, অসুস্থ ৩৪৫০ জনকে ২ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন ৫০ পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও দশটির নির্মাণকাজ চলছে।
এছাড়াও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে আটারতলা বিশিষ্ট জেলা পরিষদের নিজস্ব অফিস কাম বাণিজ্যিক ভবন, ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়ায় এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটরিয়াম, সাড়ে ১৫টি টাকা ব্যয়ে স্বন্দীপ জেটি নির্মাণ, প্রায় সাতকোটি টাকা ব্যয়ে রাউজানের নোয়াপাড়ায় শেখ কামাল স্মৃতি কমপ্লেক্স, সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা, রাঙ্গুনিয়া ও পটিয়ায় ডাকবাংলো নির্মাণ, প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরসরাইয়ে অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার, প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাউজানে অডিটরিয়াম নির্মাণ। পাশাপাশি জেলা পরিষদের নিজস্ব ১০ একর জায়গা অবৈধ দখলদার মুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের দায়িত্ব দেয়ায় তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি জনগণের আমানত হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী যেই দায়িত্ব দেবেন; তা নিষ্ঠার সাথে পালন করবো। আমি আমৃত্যু জনসেবা করে যেতে চাই।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) শাব্বির ইকবালের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন-পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ দিদারুল আলম এবং প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ আবদুল সালাম চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে সর্বশেষ ৬ মাস মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় গতকাল রবিবার (২৩ অক্টোবর) অপরাহ্নে পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবালকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। গত ১৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত এটিএম পেয়ারুল ইসলাম শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত জেলা পরিষদের অন্তবর্তী রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন শাব্বির ইকবাল।
ইমা

