বাজারে চিনি বড় অচেনা হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে গেছে। এমন অবস্থায় সরকার নির্ধারিত ৯৫ টাকা দরের প্যাকেটজাত চিনি প্যাকেট খুলে বেশি লাভের আশায় অনেকেই খোলায় বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। হঠাৎ করে বাজারে চিনির এমন মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ ভোক্তারা নাকাল অবস্থায় পড়ে গেছেন।
রোববার পাইকারি ও খুচরা চিনির ব্যবসায়ী ও নানা শ্রেণির ভোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। অথচ সপ্তাহ খানেক আগেও কেজি প্রতি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকায়। আর সপ্তাহের ব্যবধানে সেই চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা।
চলতি মাসের প্রথম দিকে সরকার খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয় প্রতি কেজি ৯০ টাকা। গত সপ্তাহের শুরুতেও চিনির দাম কেজিপ্রতি ৯৫ টাকার একটু ওপরে ছিল।
খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহ আগে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চিনি ৪ হাজার ২শ থেকে ৪ হাজার ৩শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিবস্তা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮শ টাকা থেকে ৪ হাজার ৯শ টাকায়। এ হিসাবে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি চিনির মূল্য পড়ছে ৯৭ থেকে ৯৮ টাকা। আর সেই চিনি খুচরা বাজারে গিয়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা ১১০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি চিনি ব্যবসায়ী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, চিনির সরবরাহ কম থাকায় বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৫শ টাকা থেকে ৭শ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আমাদেরকে বেশি দামে মিল মালিকদের কাছ থেকে চিনি কিনতে হচ্ছে। এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার বলেন, কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ ও দ্রব্যমূল্যের কারসাজি ঠেকাতে নানামুখী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গতকাল কর্ণফুলী থানাধীন ইছানগরস্থ এস আলমের চিনির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেছি। আমরা পুরো কারখানা ঘুরে দেখেছি। অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে আমাদের নজরদারি রয়েছে। কেউ যদি চিনির বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালায় এবং দাম বাড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল ২৪ অক্টোবর ঢাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইউডি

