দীর্ঘ ২৫ বছর পর জেলা আওয়ামী লীগ ও ১৯ বছর পর মহানগর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলন সফল করতে ইতমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ। আজকের পর আগামীকাল ২৩শে অক্টোবর রবিবার বহুল প্রতিক্ষিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন।একই স্থানে আগামী ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানগর আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এবার কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা না দিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ফলে এই দুই সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রীতিমতো উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। সম্মেলনের জন্য এরই মধ্যে শহরের ইসদাইর পৌর ওসমানী স্টেডিয়াম মাঠে তৈরি করা হয়েছে বিশাল প্যান্ডেল। সম্মেলনকে ঘিরে পদ প্রত্যাশী,
শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের ব্যানার-ফেস্টুন তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো শহর। গুরুত্বপূর্ণ সব সড়কে তৈরি করা হয়েছে শুভেচ্ছা তোরণ। তবে শেষ সময়ে এসে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে একমাত্র আলোচিত বিষয় হলো কে হচ্ছেন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক?
স্থানীয় মিডিয়া,বিভিন্ন মহলের আলোচনায় সম্ভাব্য জেলা নেতৃত্ব নিয়ে নানাবিধ নাম উঠে আসলেও নিশ্চিত নন কেউই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রধান বক্তা হিসেবে আসবেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। বিশেষ অতিথি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা.দিপু মনিসহ একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে আরও বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবর প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে।বরাবরের মতোই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যোগ্য ও কর্মীবান্ধব রাজনীতিকদের নেতৃত্বে আনার দাবি জানিয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে অনেকেই সাংসদ একেএম শামীম ওসমান এর সম্ভাবনার কথা প্রচার করলেও বাস্তবে তেমন কিছু হবার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি নিজেই।
গত ২১শে অক্টোবর শুক্রবার স্থানীয় রাইফেলস ক্লাবে সাংবাদিকদের তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন,আমি সভাপতি প্রার্থী না। তাছাড়া জেলার নেতাকর্মীদের মতে,পদবী ছাড়াই তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ।সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছেন বর্তমান সভাপতি আবদুল হাইয়ের নাম।তিনি নিজেও ঘোষণা দিয়েছেন প্রার্থীতার।এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই বলেন, এবারের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলনের প্রস্তুতি আগের সম্মেলনগুলোর চেয়ে অনেক ভালো। সাংগঠনিকভাবেও আমরা আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যাকেই সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বানাবেন, তাদের নেতৃত্বেই আমরা কাজ করব।
তিনি আরও বলেন, নেত্রী এর আগে আমার উপর বিশ্বাস রেখে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। এবারও আমি সভাপতি প্রার্থী। ইনশাআল্লাহ আমাকে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হলে আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করব।তৃনমূলেও বিতর্ক বিহীন ইমেজ রয়েছে তাঁর।জেলার সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠে আসলেও নারায়ণগঞ্জ -২ আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর সম্ভাবনা বেশি
বলে জানান তৃনমূল নেতাকর্মীরা।সেই সাথে সাধারণ সম্পাদক পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এড. আনিসুর রহমান দীপু, জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের নাম।আলোচনায় রুপগঞ্জের সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজীর কথাও বলছেন অনেকে।তবে এঁদের বাইরে থেকে কেউ চলে এলে অবাক হবার কিছু থাকবেনা।কেননা স্বয়ং দলীয় সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে বার্তা দিয়ে পাঠাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বশেষ কাউন্সিল হয় ১৯৯৭ সালের ২০ ডিসেম্বর। অধ্যাপিকা নাজমা রহমান সভাপতি ও এমপি শামীম ওসমান সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এর পর ২০০২ সালের ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরামকে আহ্বায়ক করে কেন্দ্র থেকে ৬১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয়। পরে আহ্বায়ক এস এম আকরাম পদত্যাগ করে যুক্ত হয়ে পড়েন নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে। পরে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মফিজুল ইসলামকে। ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মফিজুল ইসলাম মারা যান।
এরপর ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের তাৎকালীন প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাইকে সভাপতি এবং সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহ- সভাপতি ও এড. আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। ইতিমধ্যে জেলা আওয়ামীলীগ রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বন্দর, ফতুল্লা ও সর্বশেষ সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন সম্পন্ন করেছেন। বাকী আছে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামীলীগ কমিটি গঠন।
সামনের দিনে বহু রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পার করতে হবে আওয়ামীলীগকে।আছে জাতীয় নির্বাচন।অতীতের মতো ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় থাকতে সক্ষম একটি দল অন্তঃপ্রান নেতৃত্বের জন্য পুরো জেলার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সমর্থকগণ অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।বলার অপেক্ষা রাখেনা ২৩শে অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ ছাপিয়ে পুরো বাংলাদেশের দৃষ্টিই থাকবে এই সম্মেলনের দিকে।
ইমা

