মশা নিধন ও নিয়ন্ত্রণে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) রুটিন ওয়ার্ক চলমান থাকলেও তাতে সন্তুষ্ট নন নগরবাসী। একদিকে সংস্থাটি ওষুধ ছিটাচ্ছে অন্যদিকে দিন দিন বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মশক নিধনে চসিককে ‘চিরুনি অভিযান’ পরিচালনা, ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের নির্দেশনাও দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানার মত সক্ষমতা চসিকের থাকলেও মশা নিধনে লোক দেখানো ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাই এবার কি চসিক মন্ত্রণালয়ের কথা মত চিরুনি অভিযান চালাবে নাকি নামকা ওয়াস্তের কার্যক্রম পরিচালনা করবে?- সেই প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, যদি প্রতি বছরের মত শুভঙ্করের ফাঁকিতে মশা নিধন চলে তাহলে মন্ত্রণালয়ের চিরুনির ফাঁক দিয়ে গলে যাবে মরণঘাতী ডেঙ্গুর মশা!
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলতি বছর এ পর্যন্ত এক হাজার ৭৪২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পর ডেঙ্গুর আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামে। বর্তমানে চমেকে ১৪৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৫ জন।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, যেভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এ অবস্থা চলমান থাকলে হাসপাতালে শয্যা সংকট সৃষ্টি হবে। ব্যক্তি সচেতনার বিকল্প কিছু নেই। অফিস-আদালত, বাসাবাড়ি বা যেকোন স্থাপনার ছাদে, নালায় যদি পানি জমে থাকে সেখানে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে। এই ব্যাপারে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন থাকতেই হবে। আর জ্বরে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণে এসেছিলেন। পর্যবেক্ষণ শেষে দলটি ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কিছু এলাকাকে এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে।
ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো হলো- আগ্রাবাদ, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকা, হালিশহর, সিডিএ আবাসিক এলাকা, ডবলমুরিং ও বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালসহ আরও বেশ কিছু এলাকা। আইইডিসিআর প্রতিনিধিদলের দেওয়া তথ্য মতে, এসব স্পটে বেশি মাত্রায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তাছাড়া খুলশী ও সুগন্ধা আবাসিক এলাকার অনেক বাসাবাড়ির ছাদ বাগানের টব বা বিভিন্ন গাছের আধারে পানি জমে থাকায় সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করছে বলে চসিকের অভিযোগ।
চসিক প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, মশা নিধনের জন্য নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ১০টি জোনে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মশা নিধনে আগের চেয়ে লোকবলও বাড়ানো হয়েছে। আমাদের ২০৪ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায় স্প্রের মাধ্যমে টেমিফস ৫০ ইসি-লারভিসাইড ইনভেন্ট ছিটাচ্ছে। আবার ফগার মেশিন দিে এডাল্টিসাইড ও এলডিই (লাইট ডিজেল অয়েল) ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে আমরা মশা মারার নতুন ওষুধ মসকুবান ক্রয়ের চিন্তা ভাবনাও করছি। তাছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

