বিভাগীয় সমাবেশের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ। বিভাগীয় সমাবেশ করে ফুরফুরে মেজাজে থাকা বিএনপিকে চাপে রাখতে নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি। কর্মপরিকল্পনায় বিএনপি ঠেকাতে প্রাথমিক ভাবে পাঁচটি লক্ষ্য পূরণের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়ে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সার্কিট হাউসে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামীলীগের পাঁচ কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে – এক. বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি খালি মাঠে যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তা প্রতিহত করা। দুই. বক্তব্য বিবৃতির মাধ্যমে বিএনপি কর্তৃক সৃষ্ট জনবিভ্রান্তি দূর করা এবং তৃণমূলকে সক্রিয় করে তোলা। তিন. দলের সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা শক্ত তা পর্যবেক্ষণ করা। চার. দল ও তৃণমূলের সঙ্গে এমপিদের দূরত্ব দূরীকরণ। গ্রুপিং রাজনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে দল সমন্বিতকরণ।
এজন্য চট্টগ্রামে জেলা সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। প্রথমে জেলা সমাবেশ পরবর্তীতে উপজেলা ও থানা সমাবেশ করার পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ঐ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের কাে ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, চট্টগ্রামের প্রত্যেক উপজেলা ও থানায় জনগণকে সমন্বিত করেই নভেম্বর মাসে গণসমাবেশ আয়োজন করা হবে। এরপর জেলা সমাবেশ করা হবে। আমাদের গণসমাবেশে কেমন লোক হয় তখন দেখবেন। বিএনপি পলোগ্রাউন্ড মাঠের ৪০ শতাংশ জায়গা বাদ দিয়ে মঞ্চ করেছে। বিভাগীয় সমাবেশের নামে কক্সবাজার,কুমিল্লা, টেকনাফ থেকে পর্যন্ত সন্ত্রাসী জড়ো করে নৈরাজ্য সৃষ্টির ছক এঁকেছে। কিন্তু আমরা থাকব শান্তির বার্তা নিয়ে। কথা বলব উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে। বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি নানা ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছে। জেলা সমাবেশে আমরা সেটিরও জবাব দেব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ এখন জনবিচ্ছিন্ন একটি দল। তাদের এমপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কাছ থেকে অনেক দূরে। জনগণ এখন রাস্তায় নেমেছে। লাখ লাখ লোকের সমাগম হচ্ছে আমাদের সমাবেশে। এটা দেখে তারা শঙ্কিত; উদ্বিগ্ন। তাই বিভিন্ন উপায়ে আমাদের বাধা দেওয়ার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ।
নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ স্লোগান নিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। আওয়ামী লীগ ডাক দিলে জনগণ স্বতস্ফুর্ত ভাবে বেরিয়ে আসবে। সমাবেশের মাধ্যমে আমরা সেটি দেখিয়ে দিতে চাই। জেলা সমাবেশ করে আমরা উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র দেখাব জনগণকে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম স্লোগান নিউজকে বলেন, আমাদের জেলা সমাবেশ পাল্টাপাল্টি কোন কিছু নয়। কর্মসূচি পালন করা বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের কর্মসূচি আমরা পালন করব। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলকে ঐক্যবদ্ধ করা পাশাপাশি সাংগঠনিক শক্তি বিচার বিশ্লেষণ করা যাবে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিএনপি তাদের সমাবেশ করেছে। তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেয়া হয়নি। তারা তো বলেছিল ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটাবে। পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশে কত মানুষ হয়েছে তা সবাই দেখেছে। মিথ্যাচার করে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষকে আর তারা বোকা বানাতে পারবে না। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদেরকে সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণ করতে নির্দেশ দিয়েছি। গণতান্ত্রিক ভাবে তারা কর্মসূচি পালন করতেই পারে। কিন্তু সমাবেশ, আন্দোলনের নামে বিএনপি যদি দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, জনগণের শান্তি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালায় তাহলে আমরা তার সমুচিত জবাব দেব। তারা যেপথে এগুচ্ছে আমরা সেই পথে যাব না। সমাবেশের মাধ্যমে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল হবে। নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হবে।

