আওয়ামী লীগের মধ্যে বিএনপির মহাসমাবেশ বাধাগ্রস্ত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে ১২ অক্টোবর বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ বুঝতে পেরেছে দেশের জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। জনগণ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা তাদের বিভিন্ন বক্তব্য দেখছি, এই ফাঁদে বিএনপির কাউকে পা না দেওয়ার আহ্বান জানাই। জনসভা লাখ লাখ মানুষের জনসমাগমের মাধ্যমে শেষ হবে। বিএনপির শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর বাংলাদেশের মানুষের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া মানে বিএনপির শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া।
আমীর খসরু বলেন, ১২ অক্টোবরের বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে সব বিভাগের জনগণের মধ্যে জাগরণ উঠেছে, আমাদের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। সবাই যার যার এলাকায় মাঠে আছেন। সবাই কার্যক্রম চালিয়েছেন, এই গণসমাবেশ সফল করার জন্য। আমরা জনগণের বিশাল উদ্দীপনা আগ্রহ দেখে, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় মাঠ রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে গণসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ বাংলাদেশ যে অবস্থায় গেছে, সে অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চাইছে। যে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসতে মানুষ সংগ্রামে নেমেছে, সেটার প্রতিফলন আগামীকাল বুধবার পলোগ্রাউন্ডের মাঠে ঘটবে। দেশের মানুষ আগামীকালের পলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশের দিকে তাকিয়ে আছে। চট্টগ্রামবাসী মানুষের প্রত্যাশা আশা পূরণ করবে আগামীকাল।
তিনি বলেন, গণসমাবেশ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক নেই। যদি অন্য কারো মধ্যে আতঙ্ক থাকে তারা তা বলতে পারবে। যাদের মধ্যে আতঙ্ক আছে তারা চেষ্টা করবে, এই সভাকে অন্যদিকে ড্রাইভার্ট করার। যারা জনগণকে ভয় পায়, জনসমাবেশকে ভয় পায়, তারা অনেক কিছু করবে। প্রশাসন আশ্বস্ত করছে সমাবেশে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখবে। জনগণের জোয়ার যেখানে নামে, কোনো শক্তি সেখানে বাধা দিতে পারে না জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, যেখানে বাঁধ ভেঙে গেছে জোয়ার চলছে, সেখানে কেউ বাধা দিতে পারবে না। আমরা আমাদের কাজ নিয়ে এগিয়ে যাবো। আগামীকাল গণসমাবেশে বাংলাদেশের অন্যতম একটি জনসভায় পরিণত হবে। মানুষের স্মৃতিতে থাকবে। বাংলাদেশের আন্দোলনের ইতিহাসে এই সমাবেশ মাইলফলক হিসেবে থাকবে। জনগণের ওপর আস্থা রেখে বিএনপির রাজনীতি। আমাদের জনগণকে নিয়ে রাজনীতি। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। যেখানে লাখো জনতা রাস্তায় নামে, তারা তো একেকটা লাঠির চেয়ে শক্তিশালী। একজন বাংলাদেশের নাগরিক লাঠির চেয়ে শক্তিশালী, চাইনিজ রাইফলের চেয়ে শক্তিশালী। আমাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠির দরকার নেই। যাদের দুর্বলতা আছে তারা লাঠি নিয়ে নামে। যারা নিজেরা কিছু করতে পারছে না তারা প্রতিরোধের কথা বলছে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী হয়ে আছে, তারা প্রতিরোধের কথা বলে। কেউ সভা সমাবেশ করলে বিএনপি প্রতিরোধ করবে না। বিএনপি কাউকে বাধা দেবে না। সবার সাংবিধানিক অধিকার আছে সভা সমাবেশ করার। এর বাইরে কেউ কিছু করতে চাইলে সেটা অসাংবিধানিক হবে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবের রহমান শামীমের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাজাহান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এসএম ফজলুল হক, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবুল হাসেম বক্কর, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনর রশীদ, সহ গ্রাম সরকার সম্পাদক বেলাল আহমেদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসান ইয়াহিয়া ও কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান পলাশ প্রমুখ।

