মালিনী নামে পূজিত হলেন দুর্গা কুমারী। মালিনী অর্থ মন্দাকিনী। মন্দাকিনী একটি নদীর নাম। নদী মানে সভ্যতা, কৃষি,ধন আর প্রাচুর্য। তাই ধনশ্বৈর্য লাভের কামনায় এবার মালিনী নামে জগৎজননী দুর্গা কুমারীর পূজা করা হয়েছে।
করোনার কারণে গত দুই বছর কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়নি। নগরের পাথরঘাটায় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে এবার অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা।
পঞ্জিকানুযায়ী সোমবার (৩ অক্টোবর) ৯টা ৪৯ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ, মহাষ্টমী বিহিত পূজা। ১০৮টি মাটির প্রদীপ ও ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ করে দেবীর পূজা হয়েছে ।
সকাল সাড়ে ১০টায় মাতৃরূপে শুরু হয় কুমারী মায়ের পূজা আর্চনা। পূজা কার্যক্রম পরিচালনা করেন শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরের পুরোহিত শ্রীমৎ শ্যামানন্দ দাস মোহন্ত মহারাজ।
এবছর কুমারী মায়ের আসনে বসানো হয়েছে ৭ বছর বয়সী প্রীত ধরকে। কুমারীর বয়স ৭ বছর হওয়ায় মালিনী নামে পূজিত হন এবছর। প্রীত ধর সেন্ট স্কলাস্টিকাস স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছেন।
পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ শেষে বেলা সাড়ে ১০টায় কুমারী পূজা ও বিকাল ৪টা ৫ মিনিট থেকে ৪টা ৫৩ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে মহা অষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা।
মন্দিরের পুরোহিত শ্রীমৎ শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ সাংবাদিকদের বলেন, কুমারী শুদ্ধতার প্রতীক। পবিত্রতার প্রতীক। নারী মানে প্রকৃতি। প্রকৃতি মানে সৃষ্টি। তাই নারীকে যথাযথ মর্যাদায অধিষ্টিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। কুমারীতে সমগ্র জাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি, পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তিসহ সকল কল্যানী শক্তি সুক্ষরূপে বিরাজিতা। দুর্গা পূজায় কুমারী পূজা হলো অশুভ, অন্যায়, পাপ পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে ন্যায়, পূর্ণ, সত্য ও সুন্দরের যুদ্ধ।
দেবীদুর্গা সব নারীর মধ্যে মাতৃরূপে আছেন এ উপলব্ধি সকলের মধ্যে জাগ্রত করাই কুমারী পূজার উদ্দেশ্য। ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত কুমারীকে মাতৃভাবে পূজা করার বিধান রয়েছে।
এ পূজার বৈশিষ্ট্য হলো কুমারীকে পূজা করার সময় দেখা হয় না তার ধর্ম, জাত-পাত। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনো মেয়েই কুমারী পূজার জন্য নির্বাচিত হতে পারে। এমনকি বারবনিতার সন্তানও কুমারীরূপে পূজিত হতে পারে।
অষ্টমী ছাড়া নবমীর দিনেও করা হয় কুমারী পূজা। কালী পূজা, জগদ্ধাত্রী পূজা, অন্নপূর্ণা পূজা এমনকি শক্তি পূজাতেও কুমারী পূজা করা হয়।
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, কলাসুর নামে এক অসুর স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করে নিয়েছিল। তখন দেবতারা মা কালীর কাছে উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেন। তাদের আর্তি শুনে মা কালী শিশুকন্যা রূপে জন্ম নিয়ে কলাসুরকে বধ করেন। মা কালীর হাতে কলাসুর বধের প্রতীকী হলো কুমারী পূজা।
ইউডি

