শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চার দিন সাধারণ ছুটি এবং ৭২ এর সংবিধান অনুযায়ী সব সম্প্রদায়ের সম-অধিকার নিশ্চিত করাসহ সরকারের কাছে ১৪ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।
মঙ্গলবার ( ২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে বিগত সময়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, হামলার ঘটনা উল্লেখ করে জড়িতদের মানবতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রাম মহানগরীর জে. এম. সেন হল প্রাঙ্গণসহ ১৬টি থানায় প্রায় ২৮৩ টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। ১ অক্টোবর শুরু হয়ে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে ৫ দিন পর্যন্ত।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, গত বছরের ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে চট্টগ্রামের প্রধান পূজামণ্ডপ জে. এম. সেন হলে হামলা হয়। তখন সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রায় ৭৬ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা একে একে জামিনে বের হয়ে আসেন। তাই আমরা শঙ্কিত।
সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় এবারের শারদোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, চেতনা ও ধর্ম নিরপেক্ষ মূল্যবোধের ঐতিহ্যগত বন্ধনে আমরা আবদ্ধ। এ বন্ধন প্রকৃতির মতোই সত্য ও শাশ্বত। মৌলবাদী ও ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে যেকোনো সময় চেষ্টা চালাতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এজন্য ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা বিগত দিনে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। তারপরও আমরা লক্ষ্য করেছি দেশের কিছু কিছু স্থানে মৌলবাদি গোষ্ঠী সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে জবরদখল, মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট থানা ও ওয়ার্ড পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ইউডি

