মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোক্তারপুর এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।প্রায় দেড়ঘন্টা ব্যাপি সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক সহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।ক্ষুব্ধ কর্মীরা ১২টি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।পুলিশ,বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী পালন করতে বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা মোক্তারপুর পুরনো ফেরিঘাট এলাকায় এসে জড়ো হতে থাকেন।পুলিশ আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়েছিলো।

একসময় নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সামনে এগুতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয়।সামনের সারিতে থাকা নেতাদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তারা কথা বলার সময় হঠাৎ করেই মিছিলের পেছন থেকে পুলিশের উপর বৃষ্টির মতো ইট ছুঁড়তে শুরু করে।পুলিশও তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে লাঠিচার্জ করে।কিন্তু এতে তাঁদের নিবৃত্ত করতে পারছিলোনা পুলিশ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আহত পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বিএনপির আহত নেতাকর্মীদের গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত বিএনপি কর্মী জাহাঙ্গীরকে ঢাকা মেডিক্যাল পাঠানো হয়।
সদর থানার ওসি তারিকুজ্জামান মোবাইলে এই প্রতিবেদককে বলেন,যে সময়ে পুলিশ কর্মকর্তাগন সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলছিলেন,হঠাৎ করেই মিছিলের পেছন থেকে পুলিশের উপর বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল মারা শুরু হয়।এটা পরিস্কার বোঝা যায়, আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েই ছিলেন তাঁরা।
অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন,কর্মসূচীতে অংশ নিতে দুই দিক থেকেই মিছিল আসছিলো।আমরা মিছিল নিয়ে সামনে এগুতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয় ও ব্যানার কেড়ে নেয়।তাই বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কিছু ইট পাটকেল মারে। তারপর হঠাৎই লাঠিচার্জ শুরু করে দেয় পুলিশ।এতে নেতাকর্মীরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ইট ছুঁড়ে তাঁদের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটায়।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত দেখা যায়।ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ইমা

