গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে দগ্ধ জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনির অবস্থা আশংকাজনক। তার শ্বাসনালী ও এক কান পুড়ে গেছে, তিনি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। একই অবস্থায় পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানেরও। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাসপাতালের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আবু হেনা রনির দুই হাত, কান ও মুখমণ্ডলের কিছু অংশসহ শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানের শরীরের ১৯ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সকালে তাদের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হয়েছে। বর্তমানে তারা হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি। দুজনেরই শ্বাসনালী সামান্য দগ্ধ, তবে সেটি একেবারে গুরুতর নয়। তবে তাদেরকে শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না; গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (মিডিয়া) মো. আবু সায়েম নয়ন জানান, বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ৫ জনের মধ্যে রনি ছাড়া অন্যরা পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল)।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, শুক্রবার(১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইনস মাঠে একটি অনুষ্ঠানে এ দুর্ঘটনায় আবু হেনা রনি ছাড়াও আরও চার জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে রনিসহ তিন জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। রনি ও জিল্লুর ছাড়া চিকিৎসাধীন অপরজনের নাম মোশাররফ হোসেন।
মোল্যা নজরুল ইসলাম আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় জিএমপির ৪র্থ বর্ষপূর্তীর অনুষ্ঠানে উড়ানোর জন্য কিছু গ্যাস বেলুন নেয়া হয়। প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বেশ কয়েকবার চেষ্টা করার পরও সেগুলো উড়েনি। পরে পায়রা উড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অন্য অতিথিরা অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের দিকে চলে যান। সেখানে গিয়ে কেক কাটেন এবং বক্তব্যে অংশ নেন। এপর বেলুনগুলো নিয়ে যাওয়া হয় উদ্বোধন মঞ্চের পেছনে। কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। উদ্বোধন মঞ্চের পেছনে সবগুলো বেলুনই বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। এসময় আহতরা নিচে লুটিয়ে পড়েন। সহকর্মীরা দ্রুত আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে বেলুন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে শুক্রবার রাতেই গাজীপুর মহানগর পুলিশের ডিসি (উপ-কমিশনার, উত্তর) আবু তোরাব মো. শামসুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার।
অন্য সদস্যরা হলেন- এডিসি (উত্তর) রেদোয়ান আহমেদ, এসি প্রসিকিউশন মো. ফাহিম আশজাদ ও গাজীপুর সদর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম। তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ইমা

