চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীর যৌন নির্যাতনের সব ভিডিও উদ্ধার এবং এই ভিডিও যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঁঞার আদালত এ আদেশ দেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া, সহকারী প্রক্টর অরূপ বড়ুয়া ও মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
চট্টগ্রাম জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞ আদালত মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সব ভিডিও উদ্ধার করতে। এটা যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মামলার আইও-কে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামি নূর হোসেন শাওন জামিন চেয়েছিল। তবে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকা শাওনকে ভিকটিম শনাক্ত করেছে। এছাড়াও বাকি পাঁচ আসামিকেও ভিকটিম শনাক্ত করেছে। আদালতে উপস্থিত ভিকটিমকে বিজ্ঞ বিচারক জিজ্ঞেস করেন কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি সেই দিন রাতে উপস্থিত ছিলেন কিনা? ভিকটিম বলেছে, সে ঐ রাতে ছিল। আসামি সর্বপ্রথম ভিকটিমের পিঠে আঘাতও করেছে।
আদালত আসামি শাওনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
এদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানির দিন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভূঁঞার আদালতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, যৌন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত থাকতে আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হল সংলগ্ন এলাকায় ৫ দুর্বৃত্তের হাতে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হন এক ছাত্রী। দুর্বৃত্তরা ওই ছাত্রীকে একটু দূরে নিয়ে ভিডিও ধারণ করে বলেও জানান ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তিনি হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গত ২২ জুলাই রাতে অভিযান চালিয়ে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭। তারা হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের মো. আজিম, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগ ২য় বর্ষের ছাত্র নুরুল আবছার বাবু, হাটহাজারী সরকারি কলেজ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১ম বর্ষের ছাত্র নুর হোসেন শাওন ও ২য় বর্ষের মাসুদ রানা।
ঘটনার পরে এই চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত ২৩ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে সাইফুল নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করে র্যাব।
ইউডি

