জঙ্গল সলিমপুর থেকে ঢাকায় মানববন্ধন করতে যাওয়ার পথে আটককৃত ৬৩ জনের মধ্যে ২২ জনকে অপরাধী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বাকি ৪১ জনকে কোন ধরণের অপরাধমুলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত না থাকায় ছেড়ে দিয়েছে সীতাকুন্ড থানা পুলিশ।
১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে আটককৃতদের মধ্য থেকে শনাক্ত ২২ অপরাধীকে আদালতে পাঠিয়ে অন্যদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।
তিনি বলেন, আটককৃতদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ২২ জন অপরাধী হিসাবে শনাক্ত হয়েছে। অপরাধের সাথে জড়িত না থাকায় বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশ বয়োবৃদ্ধ। মূল অপরাধীরা এদেরকে ভুল বুঝিয়ে ঢাকার মানববন্ধনে নিয়ে যাচ্ছিল মানুষের সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে।
শনিবার ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দুটি বাস ভাড়া করে ঢাকায় মানববন্ধন করতে যাওয়ার পথে ৬৩ বাসিন্দাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সংঘর্ষের ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানকার অবৈধ বাসিন্দারা। এনিয়ে তাদের সাথে কয়েক দফায় প্রশাসনের সঙ্গে সংর্ঘষের ঘটনাও ঘটেছে। মামলার আসামিও হতে হয়েছে। প্রশাসনের বাঁধার মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়া অবৈধ বসতির এই বাসিন্দারা এবার ঢাকায় যাচ্ছিলেন প্রতিবাদী মানববন্ধন করতে। তবে মহাসড়কের সীতাকুন্ড থানা এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হয় তারা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জঙ্গল সলিমপুরে আটকে রাখা বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় সন্ত্রাসীরা। এসময় প্রশাসনের উপর তারা ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আত্মরক্ষার্থে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।
গত ৩০ আগস্ট জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ বসবাসকারীদের সরে যেতে মাইকিং করা হয়। একইসঙ্গে নিজ দায়িত্বে মালামাল সরিয়ে জায়গা খালি না করলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করা হবে বলে আল্টিমেটাম দেয় জেলা প্রশাসন।
ইউডি

