ফেনীতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীর স্বর্ণের বার ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় স্বাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী দুই গাড়িচালক মঈনুল হোসেন ও আমজাদ হোসেন তুহিন। ১৮ আগস্ট বুধবার রাতে ফেনীর আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাকির হোসাইন দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে তাদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম জানান, স্বর্ণের বার ডাকাতির সময় ব্যবহৃত গাড়ির চালক প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী। আসামি পুলিশ বিধায় পরবর্তীতে চাপের কারণে স্বাক্ষীরা ভয়ে সত্য গোপন করতে পারে। এ কারণে তাদের সাক্ষ্য আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে গাড়ি চালকরা জানান, স্বর্ণের বার ডাকাতির পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইফুল ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাশকে ফেনীর সীমানা পার করে দেন। তার সঙ্গে ছিলেন এসআই মোতাহের হোসেন, মিজানুর রহমান ও নুরুল হক। ওই ব্যবসায়ী যাতে অন্য কোনও পুলিশ সদস্যের হাতে আটক না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশল নেন তারা। এর আগে আসামিদের বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ে তাদের ঘটনাস্থলে নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে দুই দফায় ৮ দিন রিমান্ড শেষে বুধবার বিকালে প্রধান আসামি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বরখাস্ত পরিদর্শক (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ভূইয়াকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।।
এদিকে, দুই দফায় ছয় দিনের রিমান্ড শেষে ডিবির বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোতোহের হোসেন, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল হক, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) অভিজিৎ বড়ুয়া ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাসুদ রানাকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। ফেনীর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাতেই তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম।
গত রবিবার (১৫ আগস্ট) আদালতে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ও মামলার বাদীর সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনার ও পুলিশের সোর্স ছমদুল করিম ভুট্টো ।
উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট বিকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় ডিবির ওই সদস্যরা চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজার হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাসের গাড়ি থামান। ওই সময় তল্লাশীর নামে তার থেকে ২০টি স্বর্ণের বার নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রথমে চার জনকে আটক করে ফেনী পুলিশ। তাদের জবনবন্দি অনুযায়ী আরও দুইজনকে আটক করা হয়। এসময় ডিবির ওসি সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এর পর গত ১০ আগস্ট রাতে গোপাল কান্তি দাস তাদের নামে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিকে ইতোপূর্বে অভিযুক্ত ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

