‘শইল্যে (শরীরে) তো মানে না স্যার। শয়তানের ধোকায় পড়ছি, আমার কি করার আছে, কন!’
১১ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর নিজের অপরাধকে জায়েজ করতে এমনই অদ্ভুত যুক্তি হাজির করলেন বলাৎকারকারী ষাটোর্ধ্ব জালাল!
গত বুধবার (৩১ আগস্ট) বেলা ২ টায় বলাৎকারকারী ষাটোর্ধ্ব জালাল আহমেদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আটককৃত জালাল আহম্মদ (৬০) চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলাধীন আমিরাবাদ সুন্নিয়াপাড়া এলাকার মৃত এজাহার মিয়ার পুত্র। জালাল আহমেদ মূলত একজন ভবঘুরে প্রকৃতির লোক। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করে থাকেন।
রাউজান থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চুয়েট এলাকায় ভুক্তভোগী এক চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ক্লাস শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্ত জালাল ছাত্রটিকে কাছে ডেকে মোবাইল ও টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে যান।
সেখানে জোরপূর্বক প্যান্ট খুলে পায়ুপথে বলৎকারের চেষ্টার পাশাপাশি তার বুকজোড়া কামড়ে রক্তাক্তও করেন তিনি। শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে তার মাকে বিস্তারিত খুলে বললে তিনি (মা) বাদী হয়ে জালালকে একমাত্র আসামি করে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজু হবার পরপরই পুলিশ অভিযানে নামে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম ও রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল হারুনসহ পুলিশের চৌকস একটি দল রাতভর বিভিন্নস্থানে অভিযানের পর ভোরে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলাধীন নোয়াপাড়া ইউনিয়নস্থ পাঁচখাইন এলাকার এক মাজার প্রাঙ্গন থেকে পলায়নরত অবস্থায় তাকে আটক করেন।
গ্রেপ্তারকৃত জালাল আহমেদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে তার গ্রামের বাড়ির এলাকার (আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড) ইউপি সদস্য মামুন উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি জানান, জালাল একজন দুশ্চরিত্র লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। এর আগে একবার তাকে এই অপরাধে গণধোলাইও দেওয়া হয়। এলাকাবাসী তার উপযুক্ত শাস্তি চায়” উল্লিখিত দুই মামলা ছাড়াও জালালের বিরুদ্ধে অতীতে শিশু বলাৎকারের আরো অভিযোগ গ্রামবাসীর কাছ থেকে তার কাছে এসেছে মর্মেও দাবি এই জনপ্রতিনিধির।
এই ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, “নিজের স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জালালের বিরুদ্ধে একের পর এক শিশু বলাৎকারের অভিযোগ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনাচারে অভ্যস্ত একজন মানুষ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আরো তথ্য উদঘাটনের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে”।
রাউজান থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আটককৃত জালাল আহম্মদকে একজন অভ্যাসগত শিশু বলাৎকারকারী হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। এর আগেও ২০১৫ সালের অনুরূপ এক শিশু বলাৎকারের ঘটনায় বেশ কয়েক মাস জেল খাটেন তিনি।
ইমা

