কাঠমিস্ত্রি থেকে অস্ত্রের কারিগর বনেছেন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাকের উল্লাহ। মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানাধীন জংগল চাম্বল এলাকার গহীন পাহাড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল এম এ ইউসুফ। গ্রেপ্তার জাকের উল্লাহ (৫০) বাঁশখালীর জঙ্গল চাম্বল এলাকার মৌলভী নুরুল হুদার ছেলে। অভিযানে অস্ত্রের ওই কারখানা থেকে ৮টি ওয়ান শুটারগান, ২ টি টু-টু পিস্তুল এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে র্যাব। অভিযানের সময় অস্ত্র তৈরির সাথে জড়িত আরও দুয়েকজন পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল এম এ ইউসুফ জানান, গ্রেপ্তার জাকের উল্লাহ এক সময়ে কাঠের কাজ করতো। মাঝেমধ্যে কৃষিকাজও করতো। পরে অস্ত্র তৈরির কাজ শেখে। অস্ত্র তৈরি থেকে বেচাবিক্রি পর্যন্ত তিন ধরণের লোকজন জড়িত থাকে। একপক্ষ অস্ত্র তৈরি করে। এক পক্ষ অস্ত্রগুলো বেচাবিক্রির দালালের কাজ করে। আরেকপক্ষ অস্ত্রধারীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। উদ্ধারহওয়া অস্ত্রগুলো তৈরিতে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হয়। দালালের কাছে একেকটি অস্ত্র ৭-৮ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। দালালের মূল্য অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছে ১৫-৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকে। মূলত মাদক বহন ও ব্যবসা, সাগরে জলদস্যুতা এবং বাসা বাড়িতে ডাকাতির কাজেও এসব অস্ত্র ব্যবহার করে মূল অস্ত্রধারীরা। আধুনিক প্রযুক্তিকে মাথায় রেখে এসব অস্ত্র তৈরি করা হয় এবং উদ্ধার হওয়া প্রত্যেকটি অস্ত্রই সচল বলে জানান র্যাব অধিনায়ক।
এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার জাকের র্যাবকে জানিয়েছে, সে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সাথে জড়িত। একেক অস্ত্র তৈরির জন্য তারা অস্ত্রের ক্যাটাগরীভেদে ১০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্য ধরে থাকেন। ছোট ওয়ানশুটার গান জাতীয় অস্ত্র প্রস্তুত করতে ৫-৬ দিন সময় নিয়ে থাকে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আটককৃত জাকির ৭-৮ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকলের দৃষ্টি এড়াতে মাঝে মাঝে লোক দেখানো কৃষি কাজ করতো বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার। অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, অস্ত্রের কারখানাটি দুর্গম জংগল চাম্বল এলাকায়। দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অপরিচিত কাউকে দেখলেই এই অস্ত্র তৈরির সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যরা সতর্ক হয়ে যেত। ফলে তাদের অবস্থান সনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ কৌশল নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় প্রবেশ করায় এই চক্রের সদস্যরা টের পায়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া জাকের আরো বলেন, তারা মূলত ২জন কারিগর মিলে অস্ত্র তৈরির সম্পুর্ণ কাজটি করতো। অস্ত্রের প্রকারভেদে একেকটি তৈরি করতে ন্যুনতম ৫-১৫ দিন সময় লাগতো। তারা স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করতো। অস্ত্র তৈরিতে জাকের খুবই দক্ষ উল্লেখ করে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, জাকের ও তার সহযোগী অস্ত্র তৈরিতে খুবই দক্ষ। নিপুণ দক্ষতায় অস্ত্রের সকল যন্ত্রাংশ এই কারখানাতেই তারা তৈরি করতো। অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য তারা গ্রাইন্ডার মেশিন, ঝালাই মেশিন, ড্রিল মেশিন, হাতুরি, রড কাটার, বাটালসহ প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাপাতি ওই কারখানায় রেখেছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে বাঁশখালী থানায় সোপর্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন এ র্যাব কর্মকর্তা।

