সোনলী ব্যাংক চট্টগ্রামের চকবাজার শাখার খালি পে-অর্ডার গেছে জালিয়াত চক্রের হাতে। সেই খালি পে-অর্ডারকে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দেওয়া হয় এক গ্রাহকের হাতে। এ ধরণের একটি জালিয়াতির ঘটনায় এক ভুক্তভোগীর মামলায় আবদুস ছাত্তার ওরফে মামুন (৪৫) নামের সোনালী ব্যাংকের চকবাজার শাখার এক পিয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
৩০ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন গ্রেপ্তার আবদুস ছাত্তার। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে রাউজান বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তার আবদুস ছাত্তার রাউজান পৌরসভার সুলতানপুর গ্রামের মুকিম বাড়ির মৃত আবুল বশরের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের এসআই ফজলুল করিম বলেন, নগরীর কোতোয়ালী থানায় ২০২০ সালের ১৪ জুলাই দায়ের হওয়া একটি ব্যাংকের পে-অর্ডার জালিয়াতির মামলায় সোনালী ব্যাংক চকবাজার শাখার পিয়ন আবদুস ছাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পে-অর্ডার জালিয়াতির বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরআগে ২০২০ সালে ঘটনার মূল হোতা ফারুক বীন জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফারুকের বিরুদ্ধে ১৭টির মতো জালিয়াতির মামলা রয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ এলাকার ব্যবসায়ী মো. মোজাহের মিয়া (৭০) ২০২০ সালের ১৪ জুলাই সিএমপির কোতোয়ালী থানায় একটি জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করেন। ওই মামলা তদন্তে নামে পিবিআই। মামলার পরপরই আসামী ফারুক বীন জামানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই’র টিম।
জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক পিবিআই’র তদন্তকারীদের জানায়, সোনালী ব্যাংক চকবাজার শাখার পিয়ন আবদুস ছাত্তার ও তার আরেক সহযোগী মো. জাহাঙ্গীর সোনালী ব্যাংক চকবাজার শাখার ২টি সরকারি খালি পে-অর্ডার চুরি করে ফারুক বিন জামানের কাছে বিক্রি করে। ফারুক বিন জামান পরে ব্যাংকের অন্যান্য কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২০২০ সালের ১২ জুলাই ৩৭ লক্ষ ৩১ হাজার টাকার পে-অর্ডার তৈরি করে ভুক্তভোগী মোজাহার মিয়াকে দেয়। মোজাহের মিয়া প্লাস্টিক দানা কিনে বিক্রেতাকে পে-অর্ডারটি দেয়। পরে পে-অর্ডারটি আগ্রাবাদ এক্সিম ব্যাংকে বিক্রেতার একাউন্টে নগদায়নের জন্য গেলে সোনালী ব্যাংক চকবাজার শাখা পে-অর্ডারটি তাদের নয় বলে জানায়। এরপর ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন।
ব্যাংকের খালি পে-অর্ডার কিভাবে জালিয়াত চক্রের কাছে গেল সে বিষয়ে জানতে চাইলে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের এসআই ফজলুল করিম বলেন, মামলা তদন্ত চলছে। সোনালী ব্যাংক থেকে খালি পে-অর্ডার কিভাবে জালিয়াত চক্রের কাছে গেছে, এতে ব্যাংকের কোন কর্মকর্তার যোগসাজস কিংবা গাফিলতি রয়েছে কী না সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের অন্যকারো যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

