সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ফরিদ মাহমুদ বলেছেন, স্বাধীনতার পরের বছর থেকে মুজিব সরকারকে উৎখাত করার জন্যে একটি চক্র ষড়যন্ত্র শুরু করে। আরেকটি অংশ গোপনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। রাজনৈতিক পক্ষটি ভেবেছিল তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এদেশে তাঁরাই সরকার গঠন করবে।এজন্য হীন কোন কাজ নেই যে তারা করেনি।কিন্তু ৭৫ এর পরে ঘটনা প্রবাহে অরাজনৈতিক শক্তিরাই ক্ষমতা দখল করে।বর্তমানেও একই প্রক্রিয়া চলছে। দুর্নীতিতে যারা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে।কিন্তু সম্রাজ্যবাদীদের তাবেদার একটি চক্র পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। এবারের লাভের গুঁড় তারা খেয়ে ফেলবে।তবে এটা ৭৫ সাল নয়। তাদের আশায় গুড়েবালি।
রোববার দুপুরে নগরির কদম মোবারক বিজয় ৭১ হল রুমে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে অবসর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী চট্টগ্রাম আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত ‘আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তরুণ রাজনৈতিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রাজু বলেন, ৭১ ও ৭৫ এর পরাজিত পেতাত্মারা এখনও ষড়যন্ত্রের তৎপর রয়েছে। আমাদের সবসময় সচেতন থাকতে হবে। ঘাতকদের আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া যাবে না।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নিবার্হী সদস্য পীরজাদা মোঃ মহরম হোসাইন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিল্পীবৃন্দরা সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতেও সকল প্রকার মৌলবাদ, জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠবে।
অবসরের প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি প্রাবন্ধিক মোঃ সঞ্জিত আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কবি মার্জিয়া সুলতানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা স্কাউটের আঞ্চলিক কমিশনার ও তরুণ রাজনৈতিক, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শরফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী রাজু।
বক্তব্য রাখেন যুব সংগঠক নেছার আহমেদ,শেখ নাছির আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন দেলু, সংগঠনের সহ সাধারণ সম্পাদক রাজ গোপাল ঘোষ রাজু প্রমুখ।বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত স্বরচিত ছড়া/ কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন শিশু সাহিত্যিক উৎপলকান্তি বড়ুয়া, জসীম মেহবুব, সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী, নান্টু বড়ুয়া প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ পরিবেশন করেন শিক্ষক প্রণবরঞ্জন চক্রবর্তী। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন শিল্পী লুপর্ণা মুৎসুদ্দি ও নারায়ণ দাশ। আবৃত্তি করে শিশু আবৃত্তি শিল্পী মোঃ জ্যোতির্ময় জ্যোতি।অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নৃত্যশিল্পী শিখা বড়ুয়া, শিল্পী রাজীব মজুমদার, সাংবাদিক রোকন উদ্দিন, মৃণাল দাশ, মোঃ সাহাবুদ্দিন, জুয়েল বড়ুয়া, নেছার আহম্মদ, সাদিয়া আমি প্রমুখ। শুরুতে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে দাড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

