দশ বছর পালিয়ে থাকার পর চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ এলাকা থেকে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী গিট্টু মানিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস জাহান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে গিট্টু মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের একে-৪৭সহ বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় বহুল আলোচিত সরওয়ার-ম্যাক্সনসহ চট্টগ্রামের তিন শীর্ষ শিবির ক্যাডারের প্রত্যেককে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।
চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-৭ এর বিচারক এবং যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ মোছাম্মৎ বিলকিস আক্তার এই রায় দেন।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ৪ জুলাই ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া সদরের বিশ্বরোড চৌরাস্তার মোড় থেকে চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও শিবির ক্যাডার সরওয়ার এবং ম্যাক্সনকে আটক করেন নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার তৎকালীন ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মতে পুলিশ ৬ জুলাই ভোর ৪টায় বায়েজিদ থানার ওয়াজেদিয়া হামিদপুর এলাকায় তাদের সহযোগী শিবির ক্যাডার মানিকের বসতবাড়ির পেছনে পুকুরপাড় থেকে একবস্তা অস্ত্র উদ্ধার করে। অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল একটি একে-৪৭ রাইফেল ও ২৭ রাউন্ড গুলি, একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, একটি দেশি ওয়ান শুটারগান এবং একটি এলজি। এ সময় পুলিশ মানিককেও আটক করতে সক্ষম হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তিন শিবির ক্যাডারকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার তৎকালীন ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম। ওই মামলায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বায়েজিদ বোস্তামি থানার তৎকালীন এস আই জহির হোসেন।
২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালত ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ও ১৯ (চ) ধারায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন উপস্থাপন করে। এর মধ্যে আটজন সাক্ষী মামলার এজাহারে আনা অভিযোগের সপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকি তিনজন আসামিদের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

