২০১৫ সালে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে মসজিদে আত্মঘাতী গ্রেনেড হামলার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।
১৭ আগস্ট বুধবার চট্টগ্রামের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুল হালিম রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডিত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো, নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, আবদুল মান্নান, রমজান আলী ও বাবুল রহমান রনি এবং আবদুল গাফফার। এদের মধ্যে আবদুল মান্নান ও আবদুল গাফফার আপন ভাই। তারা সবাই জঙ্গী সংগঠন জেএমবি’র সদস্য। আসামীদের মধ্যে সাখাওয়াত পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামীরা আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ আইনের ৬(২) ধারায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। মামলার অভিযোগপত্রে ২৪জনকে সাক্ষী করা হলেও ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের হওয়া পৃথক অভিযোগের বিচার অন্য আদালতে চলছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার পরে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরের দুটি মসজিদে ১০ মিনিটের ব্যবধানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে সামরিক-বেসামরিক মিলে ২৪ জন আহত হন। ঘটনার নয় মাস পর ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে নগরীর ইপিজেড থানায় মামলা করেন। নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন, বলকিপার আবদুল মান্নান ও রমজান আলী এবং বাবুল রহমান রনিকে মামলায় আসামি করা হয়। পরে তদন্তে আবদুল মান্নানের ভাই আবদুল গাফফারের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ।
পরে ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর ৫ জনকে আসামী করে আদালতে সন্ত্রাস বিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র দাখিল করেন ইপিজেড থানার তৎকালীন পরিদর্শক মুহাম্মদ ওসমান গণি। দুইই অভিযোগপত্রে ২৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

