উত্তরার জসিমউদ্দিন এলাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ক্রেন থেকে গার্ডার পড়ে প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- রুবেল (৫০), ঝর্ণা (২৮), জান্নাত (৬), জাকারিয়া (২), ফাহিমা (৪০)।
সোমবার বিকেলে ঘটা এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। তারা হলেন- নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনি (২১)। তারা রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উত্তরাপশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, বিআরটি প্রজেক্টের একটি ক্রেন বক্সগার্ডার ওঠানোর সময় ঢাকা গাজীপুর মহাসড়কে ৩নং সেক্টর প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনে উল্টে গিয়ে গাজীপুরগামী একটি রেডওয়াইন কালারের প্রাইভেট কারের (ঢাকা মেট্রো গ-২২-৬০০৮) উপর পড়ে যায়। এতে প্রাইভেটকারে থাকা দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত ও দুইজন আহত হয়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার শিকার সবাই বউ-ভাতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ফিরছিলেন। শরীয়তপুর সদরের ঢালী বাজার এলাকার বাসিন্দা রিয়া মনির সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে হয় গত শনিবার। আজ কাওলায় হৃদয়দের বাড়িতে ছিলো বউভাতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে রিয়ার বাবা মো. রুবেল গাড়ি চালিয়ে তাদের আশুলিয়ার খেজুরবাগানে রিয়াদের বাসায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার দেয়ান আজাদ হোসেন জানান, ক্রেন দিয়ে গার্ডার উঠানোর কাজ চলছিলো। প্রাইভেটকার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় গার্ডারটি ছিটকে গাড়ির ওপরে পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার তিন ঘণ্টা পর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের ওপর থেকে গার্ডারটি সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরই পালিয়েছে ক্রেন অপারেটর (চালক), তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।

এদিকে সোমবার রাতে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা জোন- ৩) সাইফুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, গার্ডার পড়ে যাওয়ার খবরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে আমাদের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং আমাদের প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হাজির হই।
এসে দেখতে পাই গাড়িটি ১৫০ টন ওজনের গার্ডারের নিচে পড়ে আছে। আমরা সে সময় আমাদের যেসব স্পেশাল ইকুইপমেন্ট আছে সেগুলো দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করি। যেহেতু গার্ডার ১৫০টন ওজনের, তাই আমাদের ইকুইপমেন্ট দিয়ে কাজ করতে পারছিলাম না। যখন ক্রেন ও এক্সেভেটর আসে তখন আমরা গার্ডার সামান্য উঁচু করে ওই গাড়ি থেকে দুই শিশু, দুই নারী এবং একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করি।
উদ্ধার কাজে দেরি হওয়ার বিষয়ে সাইফুজ্জামান বলেন, এক্সেভেটর আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। এটা বিআরটি কর্তৃপক্ষের এক্সেভেটর ছিলো। এটি আসতে দেরি করা উদ্ধার কাজে দেরি হয়েছে।

