সীতাকুণ্ডে হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘নাইট সাফারি পার্ক’। ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলার সলিমপুর মৌজার ৪০ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে এই ‘নাইট সাফারি পার্ক’। সিঙ্গাপুরের মান্দাই এর আদলে এ ‘নাইট সাফারি পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যেই সাফারি পার্ক নির্মাণে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নাইট সাফারি পার্ক।
জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইকো ট্যুরিজমের উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নাইট সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশ, খাদ্যচক্র ও জীববৈচিত্র্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাহাড় ও বন ধ্বংস করে অবৈধ আবাসন ও জবর দখলের কারণে জঙ্গল সলিমপুরের বনের অস্তিত্ব দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।’ সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর মৌজার প্রায় ৮৫০ একর সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সেখানকার ৪০ একর জমিতে নাইট সাফারি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা চিড়িয়াখানার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে’, বলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান। নাইট সাফারি পার্কের নকশা প্রণয়নের জন্য মঙ্গলবার প্রকৌশলীদের একটি দল সাইট এলাকা ভিজিট করেছেন। জেলা প্রশাসক জানিয়েছে আগামী এক মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ তারা নাইট সাফারি পার্ক চালুর আশা করছেন।
এব্যাপারে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘চট্টগ্রামে যে সাফারি পার্কটি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেখানে বন্যপ্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশে পুরোপুরি উন্মুক্ত অবস্থায় থাকবে। খাঁচার সংখ্যা কমিয়ে সেখানে আচরণে মিলে আছে এমন প্রাণীদের একসঙ্গে রাখা হবে। দর্শনার্থীরা গাড়ি দিয়ে খাঁচার ভেতর প্রবেশ করবেন। ’এ সাফারি পার্কে সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে আলাদা শোয়ের ব্যবস্থা থাকবে। ভেতরে এমনভাবে আলো-আঁধারী পরিবেশ তৈরী করা হবে, যাতে দর্শকরা বন্যপ্রাণী রাতের বেলা কিভাবে চলাচল করে বা খাবার খায় তা সরাসরি দেখতে পাবেন।
ইমা

