চট্টগ্রামে গত মঙ্গলবার রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।
এদিকে বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর কাতালগঞ্জ, বাদুরতলা, হালিশহরসহ কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সকালে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘর থেকে বের হওয়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কর্মস্থলগামী চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা সরোয়ার আলম বলেন, রাত থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। এই গরমে বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। কিন্তু সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বাসার সামনের সড়কে দেখি হাঁটু পানি। এই হাঁটুপানি দিয়েই মোটরসাইকেল দিয়ে যাতায়াত করা অনেক কষ্টকর।
চকবাজার মুহাম্মদ আলী শাহ দরগাহ লেনে দুপুর পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি জমে ছিল। এই এলাকার বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, বৃষ্টি হোক, জোয়ার হোক জলাবদ্ধতা আমাদের নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। আজকেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। সকালে উঠে দেখি বাসার সামনে হাঁটু পানি। বাসায়ও পানি ঢুকে পড়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, নদী ও সমুদ্র বন্দরের জন্য কোনো সতর্কতা সংকেত নেই। বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। চট্টগ্রামে বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে বৃষ্টির কারণে নগরের খুলশীতে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং (ইউএসটিসি) এলাকায় সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছে। এতে জিইসি থেকে এ কে খান মুখি সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটেই মানুষ চলাচল করছেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও খুলশী থানা পুলিশ গাছ কেটে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। গাছের কিছু অংশ কেটে ছোট যানবাহন চলাচল করার ব্যবস্থা করেছি। গাছের বড় অংশ অপসারণ বা কেটে ফেলার জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনবল এসেছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি।

