ভুয়া আমমোক্তার বানিয়ে চট্টগ্রামে ভূমি অধিগ্রহণের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ চেষ্টার অভিযোগে শাহ আলম (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার কর্মকর্তারা।
রোববার বিকেলে এলএ শাখা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহ আলম ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। আটকের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মাসুদ কামাল বলেন, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি অধিগ্রহণের সময় দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজায় খায়রুল বাশার নামের এক ব্যক্তির সাড়ে তিন একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ক্ষতিপূরণের টাকা নেওয়ার জন্য জমির মূল মালিক সাইফুল ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যদের ৮ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়।
‘ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০২ টাকা উত্তোলনের জন্য সাইফুলদের পক্ষে এলএ শাখায় আমমোক্তারনামা জমা দেন শাহ আলম। আমমোক্তারনামাটি ভুয়া মনে হওয়ায় জমির মূল মালিকদের এলএ শাখায় ডেকে আনি। অধিগ্রহণকৃত জমির অংশীদার সাইফুল আলম আমমোক্তার নিয়োগ করেননি বলে জানান। তখন সাইফুল ও শাহ আলমকে মুখোমুখি করা হলে একে অপরকে চেনেন না বলে জানান। এরপরে, পুলিশ ডেকে শাহ আলমকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মাসুদ কামাল আরও বলেন, শাহ আলম প্রতারকচক্রের সদস্য। তিনি কয়েকজন সহযোগীর নাম বলেছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
আটক শাহ আলম বলেন, মিরসরাইয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নেওয়ার কাজে জড়িত জুবায়ের ও ফখরুল নামের দুই দালালের মাধ্যমে এ কাজ করেছি। একবছর আগেই আমাকে আমমোক্তার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলে। এলএ শাখায় এই প্রথম এসেছি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নওশের বলেন, জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা থেকে প্রতারণার অভিযোগে শাহ আলম নামের এক ব্যক্তিকে আমাদের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এলএ শাখার পক্ষ থেকে মামলার এজাহার দেওয়া হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

