দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেদের নৌকার চাহিদা মেটাচ্ছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের বোট বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে আনা পুরাতন জাহাজ থেকে সংগৃহীত এ বোট নিয়ে গড়ে উঠেছে বাজার। কাঠ ও লোহার নৌকার তুলনায় খরচ কম এবং নিরাপদ হওয়ায় এ দেশব্যাপী এ বোটের ব্যবহারও বাড়ছে। সীতাকুণ্ডের পুরাতন বিভিন্ন শিপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে বোটগুলো কিনে ব্যবসায়ীরা তা পুনরায় বিক্রির জন্য মাদাম বিবিরহাট, মদনহাট ও ভাটিয়ারী স্টেশন সংলগ্ন তিনটি খালের মুখে সাজিয়ে রাখেন। এতে প্রতিনিয়ত বিক্রির আশায় জোয়ারের সময় তিনটি খালের মুখে প্রায় দুই হাজার বোট সাজিয়ে রাখেন বিক্রেতারা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে বোট কিনে খাল থেকে মহাসড়কের পাশেই ট্রাকে তুলে বিভিন্নস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
সম্পূর্ণ ফাইবারের তৈরি প্রতিটি লাইফ বোটের বিক্রয় মূল্য ২৫ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। সারা দেশের ক্রেতারা এসব লাইফ বোট কিনতে সীতাকুণ্ডের মাদামবিবির হাট, মদনহাট, ভাটিয়ারী, কুমিরা এলাকায় হাজির হয়। সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের ফৌজদারহাট থেকে ছোট কুমিরা পর্যন্ত ২০ কিমি এলাকাজুড়ে ১০০টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। এ ইয়ার্ডকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে ৩০টিরও অধিক ছোট বড় শিল্প-কারখানা। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভাঙার/কাটার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ে আসা এসব পুরানো জাহাজে থাকে প্রকারভেদে ইঞ্জিনচালিত বা ইঞ্জিনবিহীন ৪-১০টি বোট। এসব বোট নিয়ে ব্যবসার প্রসার করেছেন কিছু ব্যবসায়ী। যা পুরাতন জাহাজের মালিক থেকে কিনে নিয়ে এক স্থানে জড়ো করে খুচরা বা পাইকারি দরে বিক্রি করেন।
দেশীয় কাঠের নৌকার চেয়ে দামে সস্তা ও লাইফটাইম টেকসই হওয়ায় স্ক্র্যাপ জাহাজের লাইফ বোটের দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফাইবারের তৈরি এসব লাইফবোট পরিবেশবান্ধব ও মজবুত এসব বোটের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় চাহিদাও প্রচুর।
ইমা

