কুমিল্লার জাগুরঝুলিতে আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট পরিচালিত ক্বাদেরিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেঙ ময়দানে গত ১২ সেপ্টেম্বর নূরানী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আওলাদে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীকত, মুর্শিশদে বরহক, পীরে বাঙ্গাল হযরতুলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ (মা.জি.আ.)।
মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরতুলহাজ্ব, সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মা.জি.আ.) এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দ আক্বিব আহমদ শাহ্ (মা.জি.আ.)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি এস.এম গিয়াস উদ্দীন (শাকের), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি মাহমুদ নেওয়াজ, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসেন খোকন, আনজুমান সদস্য শাহাজাদ ইবনে দিদার, আনোয়ারুল হক, আবদুল মালেক বুলবুল, আবদুল হাই মাসুম, সাদেক হোসেন পাপ্পু, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, এড. মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন মুন্না ও গাউসিয়া কমিটির বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ। তাকরির করেন ঢাকা কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন আযহারী, উপাধ্যক্ষ মুফতি আবুল কাশেম ফজলুল হক, মুহাদ্দিস হাফেজ মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান আলকাদেরী, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক জয়নুল আবেদীন কাদেরী, কেন্দ্রীয় দা’ওয়াতে খায়র দপ্তর সচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান হাসান কাদেরী।
আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার জমি দাতা মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী, কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা শাহ্, সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম আযম প্রমুখ।
নূরানী মাহফিলে হুজুর কেবলা আঞ্জুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট কর্তৃক পরিচালিত ক্বাদেরিয়া তাহেরিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা কমপ্লেঙের জমি দাতা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর এই মহৎ দানের জন্য আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মা–বাবার প্রতি আবেদন জানিয়ে পীর সাবির শাহ্ (মু.জি.আ) বলেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ কোন পথে? আজকের ডিজিটাল যুগে আমরা অনেকেই অজান্তেই কোমলমতি সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলছি। সন্তান মোবাইলে কী দেখছে, কার সাথে যোগাযোগ রাখছে কিংবা গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পথভ্রষ্ট হচ্ছে কি না–সেদিকে নজর না দেওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল। এই সামাজিক ব্যাধি ও নৈতিক অধঃপতন থেকে সন্তানকে রক্ষা করার উত্তম মাধ্যম হলো দ্বীনি পরিবেশ। আপনার সন্তানকে মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দিন। সেখানে তারা শুধুই ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রয়োজনীয় দ্বীনি শিক্ষা ও সুন্নতি আদর্শ অর্জনের মাধ্যমে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে উঠবে। আজকের মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আলেমরা কেবল সমাজসংস্কারেই সীমাবদ্ধ নন, আধুনিক শিক্ষায় সমন্বয় ঘটিয়ে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন–যার অসংখ্য দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। আসুন, সন্তানের হাতে মোবাইল নয়, নৈতিক শিক্ষার আলো তুলে দিই। দ্বীনি শিক্ষায় সন্তানকে আলোকিত করে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা নিশ্চিত করি। হুজুর কেবলার তাকরিরের পর সিলসিলার কাজ, মিলাদ শরীফ ও দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

