ইউনাইডেট চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিডেটের (ইউসিপিএল) এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবির করেও চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারের ইঞ্জিনিয়ারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
কর্ণফুলী থানায় অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের সামনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের লোকজনদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির ও প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পার্টনার স্থানীয় সাংবাদিক জিন্নাত আইয়ূবও হামলার শিকার হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটায় ইউসিপিএলের বাইরে প্রকৌশলীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর প্রকৌশলী কর্ণফুলী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পুলিশের সামনে আবারও হামলা করা হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজনদের উপর।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আমির বলেন, স্থানীয় যুবদল নেতা পরিচয়ে আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবী করে আসছিল। কয়েকবার লোকজন নিয়ে এসে বলে এখানে ব্যবসা করতে হলে তাকে ৫০% চাঁদা দিতে হবে। তার প্রস্তাবে মালিকপক্ষ রাজি না হলে বুধবার সকালে লোকজন ও দেশীয় অস্ত্রী নিয়ে আমার পথ আটকে আমাকে মারধর করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কোনো রকমে প্রাণে রক্ষা পাই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনারপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে পুলিশের সামনে আবারও আমাদের উপর হামলা তারা।
মেসার্স এফএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এঘটনায় আলী হোসেনসহ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। এঘটনায় আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আলী হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘অভিযোগের সূত্র ধরে ওসি স্যারের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তকারীরা বাদীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে দলবল নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’
জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
যুবদল নেতা পরিচয়ে চাঁদাবাজির ঘটনাটি স্থানীয় সাংসদ সরওয়ার জামাল নিজাম এমপিকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আলী হোসেন নামে বন্দর কমিউনিটি সেন্টারে কোনো যুবদল নেতাকে তিনি চিনেন না। আপনারা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেন।’

