প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চোখ ফাঁকি দিয়ে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় একটি নতুন ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে দুটি এস্কেভেটর ব্যবহার করে প্রায় ১০ একর পাহাড় কেটে সমতল করা হয়েছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি বাঁশখাইল্ল্যা ঝিরি এলাকায় বহিরাগত লোকমান হোসেন নামের এক ব্যক্তি এই কর্মকান্ড চালাচ্ছেন। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরুপ। অভিযুক্ত লোকমান হোসেন চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা। এ পাহাড় কাটার প্রতিকার চেয়ে রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, মা. ওসমান গনি নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত লোকমান হোসেন পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেআইনিভাবে পাহাড় কেটে সেখানে ইটভাটা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক বন, ঝিরি, জলধারা ও জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগকারী ওসমান গনি জানান, জমিটি যৌথভাবে কেনা হলেও পরবর্র্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে পাহাড় কেটে ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বড় অংশ সমতল করে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একটি পাহাড়ি ঝিরিও ভরাট করা হয়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অবাধ পাহাড় কাটার কারণে এলাকায় ভূমিধস, পানি সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী মো. ফরিদ উদ্দিন ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত লোকমান হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান পরিদর্শক মো. নুর উদ্দিন বলেন, কেউ পাহাড় কাটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ ধংসকারীকে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা।
লামায় ১০ একর পাহাড় কেটে এক ইটভাটা নির্মাণের প্রস্তুতি
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান)

