ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’ গঠনের প্রত্যয়ের বাস্তব প্রতিফলন আমরা হাটহাজারীতে দেখতে পাই।
আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, এখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে এবং এলাকার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা কিংবা গির্জা- যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন বা সংস্কারে এখানে সব ধর্মের মানুষই এগিয়ে আসে। এমনকি আমি যেসব মন্দির বা শ্মশান সংস্কারের প্রস্তাব পেয়েছি, সেগুলো কেবল সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে নয়, বরং সাধারণ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেই এসেছে।
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ মিলেমিশে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে ধারণা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন, সেটিই আজকের বাস্তবতায় আরও শক্তভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো মানুষকে ধর্ম বা বর্ণ দিয়ে আলাদা করে দেখতে চাই না। সবাই এই অঞ্চলের মানুষ- আমরা হাটহাজারীর মানুষ। হাটহাজারী ও বায়েজিদের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, তা করব।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এছাড়া অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২০১১ সালে সনাতন ধর্ম পরিষদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চবির উত্তর ক্যাম্পাস এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জমিতে কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে এটি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে পাশ হয়। এরপর অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত এই মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।

