উঠানে সাজানো চেয়ার, ঘরে ঘরে আত্মীয়দের ভিড়, রান্নাঘরে ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ। ছোট ছেলের বিয়েকে ঘিরে আনন্দে ভাসছিল পুরো পরিবার। নতুন বধূকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতিতে যখন সবাই ব্যস্ত, তখনই হঠাৎ এক নির্মম বাস্তবতা এসে সবকিছু ছিন্নভিন্ন করে দিল।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া গ্রামে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। সড়ক পারাপারের সময় বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন মো. আজগর (৬০), যিনি ওই এলাকার মৃত হাফেজ সালামত উল্লাহর ছেলে। পরিবারের স্বজনরা জানান, সেদিন রাতেই ছিল আজগরের ছোট ছেলে মো. ফরমানের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে কনের বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল পুরোদমে। আনন্দের সেই ব্যস্ততার মাঝেই আজগর বের হন বাড়ির কাছের একটি দোকানে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। কিন্তু সেটিই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা। দোকান থেকে ফেরার পথে সড়ক পার হওয়ার সময় আচমকাই একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আশপাশের পরিবেশ। স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, যে সময়ে বাড়িতে থাকার কথা ছিল আনন্দধ্বনি, সেই সময়ই নেমে আসে শোকের নিস্তব্ধতা। রাত দেড়টার দিকে কনের বাবা মেয়েকে নিয়ে আসেন, কিন্তু বরণ করার হাসি আর উল্লাসের জায়গা দখল করে নেয় কান্না আর হাহাকার। নববধূর আগমনের মুহূর্তেই পরিবার হারায় তাদের প্রিয় অভিভাবককে।আজ বুধবার সকাল ১১টায় জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয় আজগরের। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম পলাশ। একটি ঘর, যেখানে থাকার কথা ছিল নতুন জীবনের সূচনা, সেখানে এখন শুধুই স্মৃতি আর শোকের ভার। বিয়ের আনন্দ যে এত দ্রুত বিষাদে রূপ নিতে পারে, রাউজানের এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। সড়কে বেপরোয়া গতির এই অদৃশ্য আতঙ্ক আবারও কেড়ে নিল একটি পরিবারের হাসি, স্বপ্ন আর আশ্রয়।

