চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাঁচখাইনে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমধর্মী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পাঁচখাইন দরগাহ্ ডা. মো. মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের আলহাজ্ব ছালে আহম্মদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সেমিনারে শিক্ষার আধুনিকায়ন, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যকর পাঠদান এবং প্রশিক্ষণনির্ভর শিক্ষক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও শিক্ষক প্রশিক্ষক ড. শামসুদ্দীন শিশির। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তিবান্ধব শিক্ষক। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত না করলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধান দক্ষতার বিকাশ ব্যাহত হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ আইউব চৌধুরী এফ.সি.এ। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষা খাতে সামাজিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি জাতির টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে মানসম্মত শিক্ষার ওপর; আর তা নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নুরুল ইসলাম পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রণতোষ নাথ। তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাঁচখাইন দরগাহ্ ডা. মো. মিয়া চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রত্না রানী বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, দক্ষিণ রাউজানের প্রাক্তন সভাপতি প্রবীণ শিক্ষক অমল চন্দ্র দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি মো. আবুল হোসেন। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দেওয়ানপুর এস.কে. সেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল গফুর মাস্টার এবং পশ্চিম গুজরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখর ঘোষ আপন।
সেমিনারে বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সার্বিকভাবে, সেমিনারটি শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির প্রয়োগ এবং ধারাবাহিক পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্বকে সামনে এনে শিক্ষা মানোন্নয়নে একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণভিত্তিক আয়োজন শিক্ষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে আরও ফলপ্রসূ ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান নিশ্চিত করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

