পার্বত্য জনপদ খাগড়াছড়িতে বইতে শুরু করেছে বৈসাবির প্রাণের স্পন্দন। পাহাড়ি জনজীবনে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের রঙ, আনন্দ আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বর্ণিল কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে উৎসবকে বরণ করে নিচ্ছে পুরো জনপদ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের আয়োজনে এবং ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সহযোগিতায় গড়িয়া নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক ডিসপ্লেতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরা হয়। নৃত্যের ছন্দে ছন্দে ফুটে ওঠে তাদের জীবনচিত্র, বিশ্বাস ও উৎসবের আবেদন। পরবর্তীতে পরিবেশিত হয় একাধিক ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্যভঙ্গিমায় ফুটে ওঠে নিজস্ব সংস্কৃতির অনন্য সৌন্দর্য।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্লসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বৈসাবি শুধু একটি উৎসব নয়—এটি তাদের আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রতীক। যদিও মূল আয়োজন ১২ এপ্রিল, তবে আগাম এই উদ্যোগের মাধ্যমে উৎসবের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৈসাবিকে ঘিরে পুরো পার্বত্য অঞ্চলে বইবে আনন্দের জোয়ার, মুখর হয়ে উঠবে চারপাশে।
