ঢাকার আদালতে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর রিমান্ড শুনানি শেষে আইনজীবীদের হট্টগোলের কারণে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। বেশ কিছুক্ষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিচারক সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের এজলাশ কক্ষ থেকে বের করে দেন।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের হৈ চৈ শুরুর আগে আদালত সাবেক স্পিকারকে জিজ্ঞাসাবাদে দুই দিনের রিমান্ড আদেশ নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মঙ্গলবার ভোরে গ্রেপ্তার শিরীন শারমিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। তখন কক্ষটি কানায় কানায় ভরে যায়।
মিনিটখানেক পর বিচারক জুয়েল রানা এজলাসে ওঠেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
শিরীন শারমিনের পক্ষে আইনজীবী ইবনুল কাওসার ও এ বি এম হামিদুল মেজবাহ রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন দুই আবেদনই নামঞ্জুর করেন।
এ আদেশের পরপরই এজলাস কক্ষের ভেতর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করেন। তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে কারও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
একপর্যায়ে বিচারক আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের এজলাস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এসময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুককে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করতে দেখা যায়।
কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণে আদালতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংবাদ কর্মীরা।
এজলাসে উপস্থিত এক বেসরকারি টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার বলেন, “আদালতে চলমান বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আমরা দায়িত্ব পালন করছিলাম। এসময় হঠাৎ বিচারক সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মরত সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের করে দেন। ঘটনাটি আমাদের বিস্মিত করেছে।”
এদিন ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাকে আদালতে উপস্থাপনের জন্য দুপুর ২টার দিকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহসীন উদ্দীন তার দুই দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানির জন্য বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়। তখন সেই কক্ষটি কানায় কানায় ভরে যায়।
শুনানি শেষে আদেশের পর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সাবেক স্পিকারকে আবার সিএমএম আদালতে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় আওয়ামীপন্থি কয়েকজন আইনজীবী ‘জয় বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে শিরীন শারমিনকে তাড়াহুড়ো করে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন হুড়োহুড়িতে সিঁড়িতে পড়ে যান তিনি।
এদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়ায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।
২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।

