বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি -এ তিন পার্বত্য জেলার পাড়া পর্যায়ের বৃহত্তর প্রজেক্ট ‘টেকসই সামাজিক সেবা’ প্রদান প্রকল্প আজ হুমকির মুখে। এ তিন কর্মকর্তার এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় প্রজেক্টের সেবা পাচ্ছেনা উপকারভোগীরা। এসব কৃতকর্মে সংশ্লিষ্টরা অনিহা প্রকাশের পাশাপাশি বিশ্বাস হারাচ্ছেন। অভিযুক্ত সাবেক তিন কর্মকর্তারা হলেন- কাউখালী উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিলুফা নাজনীন, গুইমারা উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মনজু মানষ ত্রিপুরা ও বান্দরবান প্রোগ্রাম অফিসার বিদ্যুৎ শংকর ত্রিপুরা। তারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগি কর্মকর্তা বলে অভিযোগে জানা গেছে। ইতিপূর্বে এদের বিরুদ্ধে প্রকল্প এবং উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের আদেশও অমান্যের নজির রয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাড়া পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত টেকসই সামাজিক সেবা প্রধান প্রকল্প ২য় পর্যায়ে কার্যক্রম ২০২৫ সালের মার্চ মাসে হতে পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা রয়েছে ২ লক্ষ ৫ হাজার আর ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৬০হাজার। কর্মচারী কর্মকর্তা রয়েছেন ১৭০জন, মাঠ সংগঠক ৪৫০জন. পাড়াকর্মী ৪ হাজার ৫৫০জন। উল্লেখিত অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার কারণে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ২ বছর বেতন পায়নি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও মাঠ সংগঠকসহ পাড়াকর্মীরা। এতে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সম্প্রতি এ প্রকল্পের জন্য একজন দক্ষ কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য অভিযুক্ত এ তিন কর্মকর্তা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে নামে বেনামে অভিযোগ করে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছেন। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, তিন কর্মকর্তার পছন্দনীয় একজন লোক রয়েছেন। তাকেই নিয়োগ পাইয়ে দিতেই মূলক নামে বেনামে দরখাস্ত বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত এ তিন উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্বয়ং নিজে উপজেলা উপস্থিত থাকেন না। বিধায় পাড়া কেন্দ্র পরিদর্শনসহ পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকগণ সঠিকভাবে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে পারছেন না। প্রকল্পের কার্যক্রম দেখার কোন অভিভাবক উপজেলায় যথাযথভাবে কাজ করছেন না বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া বেতন না পাওযায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রকল্পে একচেটি আধিপত্য, অনৈতিক কর্মকান্ড ও আর্থিক কেলেঙ্কারি জড়িত ছিলেন। ২০০৯ সালে মঞ্জু মানষ ত্রিপুরা লামা উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় পাড়া কেন্দ্র নির্মাণ ও মেরামতের ছয় লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও পরক্ষণে আওয়ামী লীগ সরকার থাকার কারণে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। নিলুফা নাজনীন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে ক্ষমতার অপব্যবহারের আচরনের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা করলেও আওয়ামী লীগের ক্ষমতা অপব্যবহার করে উল্টো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হেনস্তা করেন। তবে এ অভিযোগ সত্য নয় এবং এ বিষয়ে কোন কিছুই জানেন না বলে জানান, প্রকল্পের কাউখালী উপজেলার প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিলুফা নাজনীন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাঠ সংগঠক ও পাড়াকর্মী বলেন, আমাদের স্যাররা অর্থাৎ উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিজেরাই মাঠে নেই এবং তাই আমরা কি করি বা আমরা কি করব এই ব্যাপারে সঠিক দিক নির্দেশনা না থাকায় উপজেলাগুলোতে প্রকল্পের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বান্দরবান জেলার প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিদ্যুৎ শংকর ত্রিপুরা বলেন, এসব অভিযোগের সাথে জড়িত থাকা প্রশ্নেই উঠেনা। বরং সংশ্লিষ্টরা বেতন পাচ্ছেনা এ নিয়ে আমি নিজেই মর্মাহত।
প্রকল্প ব্যবস্থাপকের কারনে তিনপার্বত্য জেলার বৃহত্তর ‘টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান’ প্রকল্প আজ হুমকির মুখে
নিজস্ব প্রতিবেদক

