ধান ঘরে তোলার এ সময়ে ফটিকছড়িতে তিন কৃষকের ধান পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পর পর এ তিন ঘটনায় কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। কয়েক দিন আগে খেতের ধান কেটে পাশের লিজের জমিতেই রেখেছিলেন বর্গাচাষী কৃষক মুহাম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার সকালে ধান মাড়াই করার জন্য প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু খেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ধান পুড়ে ছাই হয়ে পড়ে আছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা ধানের গাদায় আগুন লাগিয়ে সব শেষ করে দিয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাগমারার খামার পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এরআগে, গত এক সপ্তাহে হারুয়ালছড়ি ও দৌলতপুরসহ মোট তিন ঘটনায় কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। বর্গাচাষী সেলিমের ২০০ শতক (৫ কানি) ধানের কয়েকটি গাদা (স্তুপ) ছিল। সেলিম অভিযোগ করেন, এসব জমির সব ধান পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। পূর্ব-শত্রæতার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেলিম গরীব ও ভদ্র বর্গাচাষা। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে তিনি এসব চাষাবাদ করেন। কৃষিকাজ করে তিনি পুরো সংসার চালান। মাঠে তাঁর বিভিন্ন ধরনের আবাদ রয়েছে। সেলিম তার জমিতে চাষাবাদ করা ধান ৩-৪ দিন আগে কাটেন। সেগুলো খেতের পাশেই লিজ নেওয়া একটি স্থানে একাধিক গাদা তৈরি করে রাখা ছিল।
বৃহস্পতি-শুক্রবার সেগুলো সেখানে মাড়াই করার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে সব ধান পুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী এক বাসিন্দা আগুনে পুড়তে দেখে সেলিমকে খবর দেন। পরে সেলিম সেখানে গিয়ে দেখেন, তাঁর জমির সব ধান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রæত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মাঠের জমিতে রাখা ধানের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। একে একে সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ঘটনায় উপজেলাজুড়ে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।’
ক্ষতিগ্রস্থ চাষী মুহাম্মদ সেলিম আরোও বলেন, ‘শত্রুতা করেই আমার এত বড় ক্ষতি করা হয়েছে। আমি এসব জমি বর্গানিয়ে চাষাবাদ করে পরিবার চালাই। এসবে অন্তত ৫০০ আড়ি ধান হতো। আমার জমির ধানগুলো কী দোষ করল? জমিতে রাখা ধানগুলো আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হলো। মানুষের সঙ্গে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ফসলের কী অপরাধ? এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠিন শাস্তি চাই।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সালেক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমাদের মাঠকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেছেন। আমরা ওই ক্ষতিগ্রস্থ কৃষককে সরকারের পক্ষথেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘এসব ঘটনায় একেবারেই অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। মানুষের সাথে শত্রুতা শুনেছি, কিন্তু এভাবে জমির ধান পুড়িয়ে দেওয়া একবারেই অমানবিক। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে দ্রুত ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছি।’

