সীতাকুণ্ডে আগাম জাতের রূপবান শিম চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন তিন শতাধিক কৃষক। শিমের আশানুরূপ ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় খুশি তারা। ইতিমধ্যে এ শিম বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দূর্গম পাহাড়ে ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে বারোমাসি রূপবান শিম। উপজেলার শিম চাষ এলাকায় ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে রূপবান শিম চাষে ধারাবাহিক লাভের কারণে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে এই শিমের চাষ ছড়িয়ে পড়ছে। সীতাকুণ্ডের রূপবান শিম একটি গ্রীষ্মকালীন জাতের শিম, যা এই অঞ্চলে সফলভাবে চাষ হচ্ছে এবং কৃষকদের কাছে ভালো আয় তৈরি করছে।
এটি সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি জমিতে চাষ করা হয় এবং স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ইতালি ও অন্যান্য দেশে রপ্তানিও হচ্ছে। এই শিম গ্রীষ্মকালে উৎপাদিত হয়, যখন অন্যান্য শিম বাজারে কম থাকে। এ শিম একবার লাগালে প্রায় ৫/ ৬ মাস একটানা ফলন দিতে থাকে ফলে খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ পান কৃষকরা। সীতাকুণ্ড শিম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত, এবং রূপবান শিম কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের একটি উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি রূপবান শিম বাজারে ১১০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম প্রথম অবস্থায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়। এই শিম স্থানীয় বাজার ছাড়াও ইতালিসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা এটিকে একটি লাভজনক ফসল হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
বাড়বকুণ্ডের কৃষক মাহবুবুল হক জানিয়েছেন, তিনি সমতল ভূমি থেকে প্রায় ১হাজার ফুট উপরে এবং ২/৩ কিলোমিটার গভীরে গহীন পাহাড়ে ২ একর জমিতে রূপবান শিম লাগিয়েছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শিম বিক্রি করেছেন ৪ লাখ টাকার। জমিতে আরো অন্তত ২ লাখ টাকার শিম আছে। কৃষক ইসমাইল জানিয়েছেন, দূর্গম পাহাড়ের আসা যাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য তবে রূপবান শিমের চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। পাহাড়ি জমিগুলোতে সারা বছর জুড়ে রূপবান শিম চাষ করা হয়।
এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন ফসলের ভালো ফলন হয়। বর্তমানে রূপবান শিমের কেজি ১শ থেকে ১৫০ টাকা কেজি হলেও শীতকালীন শিপ বাজারে এলে দাম অনেক কমে যাবে।

